বায়ুদূষণে ঢাকা শীর্ষে, খুলনায় মান ৫৩৭, হেমায়েতপুরে ৬৬৭
সোমবার সকালে বিশ্বের ১১৯টি নগরীর মধ্যে বায়ুদূষণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ৩৩২, যা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মান বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ স্তর নির্দেশ করে। তবে রাজধানীর চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ খারাপ অবস্থা খুলনার, যেখানে বায়ুর মান ৫৩৭ রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ দূষণ
ঢাকা নগরী ও এর আশপাশের পাঁচটি স্থানে আজ বায়ুর মান অস্বাভাবিক খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দূষণ হেমায়েতপুরে, যেখানে বায়ুর মান ৬৬৭। অন্যান্য স্থানগুলোর মধ্যে নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেডে ৪২৯, সাগুফতায় ৩৪৮, গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটারে ৩৩৪ এবং দক্ষিণ পল্লবীতে ৩৩২ মান রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী লাগোয়া একটি স্থানে দূষণের মান ৬০০ ছাড়িয়েছে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
আইকিউএয়ারের তথ্য ও দূষণের স্তর
বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং একটি লাইভ সূচকের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করে। এই সূচক নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে।
বায়ুদূষণের মান ২০০-এর বেশি হলে সেটিকে খুব অস্বাস্থ্যকর বিবেচনা করা হয়; আর ৩০০ হয়ে গেলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে গণ্য হয়। ঢাকার বর্তমান মান ৩৩২ এই দুর্যোগপূর্ণ স্তরে পড়ে, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বায়ুদূষণের প্রভাব ও অতীত উদ্যোগ
ঢাকার বায়ুদূষণ ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি প্রায় ৮ শতাংশ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিভিন্ন সরকারের সময় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেসবের কোনো কার্যকর ফলাফল দেখা যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হলেও, তাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ঢাকা বা দেশের অন্য কোনো স্থানে দূষণ পরিস্থিতির উন্নতি চোখে পড়ার মতো নয়।
দেশব্যাপী দূষণের চিত্র ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম
দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আজকাল ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম আছে, তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। কিন্তু এসব কার্যক্রমের তেমন কোনো ফল নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
নতুন সরকার দূষণ রোধে কী করতে পারে, তা এখন একটি বড় প্রশ্ন। পরিবেশবিদরা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।
