সাভার উপজেলাকে 'ডিগ্রেডেড এয়ারশেড' ঘোষণা করল সরকার, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ প্রশ্নবিদ্ধ
সাভার 'ডিগ্রেডেড এয়ারশেড' ঘোষণা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

সাভার উপজেলাকে 'ডিগ্রেডেড এয়ারশেড' ঘোষণা করেছে সরকার

সাভার উপজেলাকে সরকারি ভাবে 'ডিগ্রেডেড এয়ারশেড' ঘোষণা করা হয়েছে, যা বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের একটি আইনি পদক্ষেপ। বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো এলাকার বায়ুমান মারাত্মক দূষিত স্তরে পৌঁছালে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া যায়। গত বছর পরিবেশ অধিদপ্তর এই সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

বায়ুর মানের ভয়াবহ পরিস্থিতি

আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সাভারের বায়ুর মান ৫৩৭ রেকর্ড করা হয়েছে, যা 'দুর্যোগপূর্ণ' স্তরের চেয়েও অনেক বেশি। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের মতে, বায়ুর মান ৩০০ পার করলে তাকে দুর্যোগপূর্ণ বলা হয়। সাভারের এই দূষণ ঢাকার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি, যেখানে ঢাকার বায়ুর মান ২২০ ছিল, যা 'খুব অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ। সাম্প্রতিক অতীতে এত উচ্চ মাত্রার দূষণ অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘোষণার পরেও অব্যাহত দূষণ

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেছেন, 'সাভারকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা নিছক আলঙ্কারিক পদক্ষেপ। গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হলেই কাজ হয় না, বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।' তাঁর মতে, এই ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা বা বিশেষজ্ঞ আলোচনা হয়নি।

নিষিদ্ধ কার্যক্রম ও বাস্তবতা

ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পর সাভারে কিছু কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়:

  • সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সাভার উপজেলার ইটভাটাগুলোতে (টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া) ইট পোড়ানো ও প্রস্তুতকার্য বন্ধ
  • উন্মুক্ত অবস্থায় কঠিন বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ
  • বায়ুদূষণ সৃষ্টির আশঙ্কাযুক্ত নতুন শিল্পকারখানার জন্য ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, 'ঘোষণার পর অনেক ইটভাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আদালতের আদেশে ৪০-৪৫টি আবার চালু হয়েছে। সব বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।' সাভারে ১০৬টি ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র দুটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট তৈরি করে।

ঢাকার দূষণে সাভারের প্রভাব

অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে উত্তর থেকে দক্ষিণে বাতাস প্রবাহিত হয়। ঢাকা দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ায় সাভারের দূষণ সরাসরি ঢাকায় পৌঁছায়, ফলে রাজধানীর বায়ুদূষণও বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই সাভারকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছিল বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

রাজধানীর অন্যান্য এলাকার দূষণ

রাজধানীর পাঁচটি স্থানে আজ ভয়ানক দূষণ রেকর্ড করা হয়েছে:

  1. নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেডসংলগ্ন এলাকা: বায়ুর মান ২৮৩
  2. সেগুফতা: বায়ুর মান ২৬৫
  3. দক্ষিণ পল্লবী: বায়ুর মান ২৫০
  4. গুলশানের বে'জ এইজ ওয়াটার: বায়ুর মান ২৩৫
  5. বেচারাম দেউড়ী: বায়ুর মান ১৯১

দেশের সর্বত্র বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে ঢাকার বাইরের কিছু এলাকায় দূষণের মাত্রা আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও এর তেমন কোনো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।