শিবগঞ্জে নদী মিলনস্থলের পরিবেশগত সংকট
শিবগঞ্জ উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় করতোয়া নদীর সঙ্গে গাংনাই ও নাগর নদের মিলনস্থলটি এখন পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। এই ঐতিহাসিক মিলনস্থলটি দখল, চাষাবাদ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও কৃষি ব্যবস্থাকে হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা
গাংনাই নদটি গাংনাই সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে চললেও এটি এখন মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। নদটিতে পানি নেই বললেই চলে, যা এর প্রাকৃতিক প্রবাহকে ব্যাহত করছে। অন্যদিকে, করতোয়া নদীও দখল ও চাষাবাদের কারণে সরু হয়ে গেছে, যার ফলে এর শীর্ণকায় আকার ধারণ করেছে। নাগর নদের সঙ্গেও করতোয়ার মিলনস্থলটি পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে, যা পুরো ত্রিমোহনী এলাকার জলপ্রবাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
কৃষি ও দখলের প্রভাব
শুকিয়ে যাওয়া গাংনাই নদের বুকে এখন ধানের খেত লাগানো হয়েছে, যেখানে কৃষকরা নিড়ানি দিচ্ছেন। এই চাষাবাদ নদীর প্রাকৃতিক গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং দখলের মাধ্যমে নদীগুলোর সংকোচন ঘটছে। করতোয়া, গাংনাই ও নাগর—এই তিন নদ-নদীর মিলনস্থলটি আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চললেও এর জলধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যা বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরিবেশগত উদ্বেগ
এই নদীগুলোর অবনতি স্থানীয় পরিবেশের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়া ও দখল হওয়ার কারণে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্য হ্রাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও, কৃষি কাজের জন্য নদীর পানি ব্যবহারের অভাবে ফসল উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে, যা অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। করতোয়া ও গাংনাই নদের মিলনস্থলসহ পুরো এলাকাটি এখন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জরুরি পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদরা এই অবস্থার উন্নতির জন্য দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরে পাওয়া যায় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।
