ঢাকার স্যানিটেশন ও পানি দূষণ রোধে বিশ্বব্যাংকের ৩৭ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন
ঢাকার পানি দূষণ রোধে বিশ্বব্যাংকের ৩৭ কোটি ডলার ঋণ

ঢাকার স্যানিটেশন ও পানি দূষণ রোধে বিশ্বব্যাংকের ৩৭ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন

বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকার স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষেবা উন্নত করতে, পানি দূষণ কমানো এবং খাল-নদী পুনরুদ্ধারে ৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩৯ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হবে ৪ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা।

ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য

বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এই ঋণ অনুমোদন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই অর্থ মূলত ঢাকার দূষণ রোধ ও নদী নালা দখলমুক্ত করার কাজে ব্যবহার হবে, যা শহরের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কর্মসূচির বিস্তারিত ও প্রভাব

এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকায় পানি দূষণ কমাতে স্থানীয় ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জোরদার করা হবে। ঢাকা শহর দেশের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এবং জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ তৈরি করে, তাই এই উদ্যোগ অর্থনীতির উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কর্মসূচিটি সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসাকে গ্রাউন্ড ওয়াটার উত্তোলনে শক্তিশালী করবে, যাতে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ পানি ও ৫ লাখ মানুষকে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় আনা যায়।

এছাড়া, এই প্রকল্প উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষেবা দেবে এবং দূষণ ও পরিষেবার ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলিকে অগ্রাধিকার দেবে। বাংলাদেশ ও ভুটান নিযুক্ত বিশ্বব্যাংক বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেম বলেন, "ঢাকার মানুষের জন্য পানি হলো জীবনরেখা। কিন্তু দ্রুত অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পানি দূষণ বাড়ছে। দূষণ শহরে ছাড়িয়ে গেছে; যা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।"

দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই কর্মসূচি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার নদী ও খালের দূষণ কমাতে এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরিতে সহায়তা করবে। এটি একটি টেকসই সমাধান হিসেবে কাজ করবে, যা শহরের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ অনুমোদন ঢাকার নগর উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একটি মাইলফলক হতে পারে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণ মোকাবিলার প্রেক্ষাপটে।