বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ২৮২
দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ২৮২

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান

বুধবার সকালে ঢাকা, বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী শহর, বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে। সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ২৮২, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই মাত্রা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে বলে একিউআই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকা

ভারতের দিল্লি প্রথম স্থান দখল করেছে ৩২৬ একিউআই স্কোর নিয়ে, যেখানে কলকাতা ১৯৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় এবং পাকিস্তানের করাচি ১৭৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এই তালিকা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলো বায়ু দূষণের মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কেলের ব্যাখ্যা

একিউআই স্কেল অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত রিডিং ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য বায়ুর গুণমান নির্দেশ করে, যদিও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘস্থায়ী বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১০১–১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১–২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১–৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর উপরের রিডিং ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

একিউআই কী এবং কীভাবে গণনা করা হয়?

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দৈনিক বায়ুর গুণমান রিপোর্ট করে, যা বাসিন্দাদের জানায় বাতাস কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে। বাংলাদেশে, একিউআই পাঁচটি প্রধান দূষণকারী পদার্থের ভিত্তিতে গণনা করা হয়: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২), এবং ওজোন

ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সাথে সংগ্রাম করছে। শহরের বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। এই ঋতুগত পরিবর্তন শহরের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোর একটি নিয়মিত দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যার প্রধান উৎসগুলো হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার, এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। এই পরিসংখ্যান বায়ু দূষণের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য প্রভাবের ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

ঢাকার বর্তমান একিউআই অবস্থান শহরটির জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে, বিশেষ করে শীতকালীন মাসগুলোতে যখন দূষণের মাত্রা সাধারণত চরমে পৌঁছায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।