বায়ুদূষণে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর, বাতাসের মান 'খুব অস্বাস্থ্যকর'
বায়ুদূষণে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর

বায়ুদূষণে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর, বাতাসের মান 'খুব অস্বাস্থ্যকর'

মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের কবলে থাকলেও আজ সকালে বাতাসের মান ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ২৮৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। বায়ুমানের এই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

দূষিত শহরের বৈশ্বিক তালিকা

আইকিউএয়ারের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একই সময়ে ৩৫৮ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি শহর। দিল্লির বায়ুমান বর্তমানে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া ১৯৪ স্কোর নিয়ে ভারতের আরেক শহর কলকাতা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ অবস্থানে থাকা মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরের স্কোর ১৮২ এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৭২। দক্ষিণ এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর মধ্যে দিল্লি ও ঢাকার বায়ুমান এখন সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে অবস্থান করছে, যা শীতকালীন বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের ফলে আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বায়ুমান সূচক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি

বায়ুমান সূচক বা একিউআই অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হলেও স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। ঢাকার বাতাস এখন এই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ স্তরেই রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের বাইরের কার্যক্রম একেবারে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। সাধারণ মানুষের জন্যও ঘরের বাইরে চলাচলের সময় উন্নত মানের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্কোর ৩০০ পার হয়ে ৪০১ পর্যন্ত পৌঁছালে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলা হয়, যা যেকোনো সুস্থ মানুষের জন্য স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

দূষণের প্রধান উৎস ও প্রভাব

মূলত শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের ধুলোবালি এবং যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে ঢাকার বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার চারপাশে থাকা ইটের ভাটা এবং শহরের ভেতরে অপরিকল্পিত রাস্তা খননের ধুলোবালি বাতাসের মান নষ্ট করার প্রধান উৎস। বাতাসের এই বিষাক্ত ধূলিকণা সরাসরি মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও অ্যালার্জির মতো জটিলতা সৃষ্টি করছে। প্রতিদিন সকালে বাতাসের এই বিষাক্ত অবস্থা নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

উদ্বেগ ও সমাধানের পথ

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বায়ুদূষণ মোকাবিলায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা উদ্বেগ জানানো হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই সংকট উত্তরণে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আরও জোর দিচ্ছেন যে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।