রাজশাহীতে মাঝারি তাপপ্রবাহ, তাল পাখার চাহিদা বাড়ছে
রাজশাহীতে তাপপ্রবাহ, তাল পাখার চাহিদা বাড়ছে

রাজশাহীতে তীব্র গরমে মাঝারি তাপপ্রবাহ, তাল পাখার চাহিদা বাড়ছে

গরমের তীব্রতা থেকে সাময়িক স্বস্তির জন্য রাজশাহীর মানুষ তাল পাখার দিকে ঝুঁকছেন। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই দৃশ্য দেখা গেছে। বিভাগটির ওপর দিয়ে দুই দিন ধরে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে, যা গতকাল সোমবারের তুলনায় আরও দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

তাপমাত্রার রেকর্ড ও আবহাওয়ার অবস্থা

আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। এর আগে ৩ এপ্রিলেও একই তাপমাত্রা উঠেছিল। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে, যদিও দুই দফা কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা কমেছিল।

গত রোববার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গতকাল সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়, যা দেশের সর্বোচ্চ ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়, যা রাজশাহীতে গতকাল ও আজ চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়া কর্মকর্তার বক্তব্য

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, "আজ দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত মৌসুমের সর্বোচ্চ। যদিও এর আগে ৩ এপ্রিলেও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় সব শ্রেণির মানুষ বিপাকে পড়েছেন। শ্রমজীবীদের প্রচণ্ড রোদের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে, রিকশাচালকদের আয় কমেছে। নগরের অকট্রয় মোড় এলাকায় দুপুরে দুজন বালু ও পাথর সরানোর কাজ করছিলেন, যাদের মাথায় গামছা বাঁধা ছিল। তাঁদের একজন রুবেল মুরমু বলেন, "খুব গরম, গা থেকে ঘাম ছুটে যাচ্ছে, পানি খেলেও বেরিয়ে যাচ্ছে, কাজ কষ্টকর এবং টাকা কম।"

একই এলাকায় গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া রিকশাচালক মো. রনি বলেন, "সকাল থেকেই রোদ, রাতেও গরম থাকে, লোডশেডিং হয়েছে, মাথা ঝিমঝিম করছে এবং ভাড়াও নেই।" এই পরিস্থিতিতে গরমে স্বস্তির জন্য তাল পাখার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের চাহিদা বেড়েছে, যা স্থানীয় বাজারে দেখা যাচ্ছে।