রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান সোমবার সকালে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা নগরবাসীর জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বাতাসের মান ২২৭ স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত।
বায়ুদূষণের উৎস ও প্রভাব
ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ ও শিল্পকারখানা। বিশেষ করে শীতকালে বায়ুতে আর্দ্রতা কম থাকায় দূষিত কণাগুলো বাতাসে বেশি সময় ধরে ভাসতে থাকে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে। এ অবস্থায় নগরবাসীর শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয়
পরিবেশবিদরা বলছেন, এ ধরনের দূষণের সময় প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়াই ভালো। প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের উদ্যোগ
সরকার বায়ুদূষণ কমাতে ইটভাটা বন্ধ ও যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা জোরদারের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকায় দূষণের মাত্রা এখনও উদ্বেগজনক। পরিবেশ অধিদপ্তর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিংয়ের আশ্বাস দিয়েছে।
ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী, ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৫০০ পর্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে ঢাকার স্কোর ২২৭ হওয়ায় তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বিভাগে পড়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ কমাতে টেকসই নগর পরিকল্পনা, সবুজায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তবেই ঢাকার বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়া নিরাপদ হবে।



