বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশে ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়লো
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এই প্রেক্ষিতে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা।
নতুন দাম কার্যকর ও বিবরণ
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, নতুন এই দাম বুধবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। সমন্বিত এই দামেই বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হবে। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে, ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এটি চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের ৫৫তম সমন্বয়। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী দাম সমন্বয়
সবশেষ গত ৯ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এই পরিবর্তনটি বিশ্ববাজারের ওঠানামার সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে স্বর্ণের দামে এই ধরনের ওঠানামা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য আমদানি ব্যয় বাড়াতে পারে, যা ভোক্তাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজুসের এই সিদ্ধান্তটি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এবং ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যারা বাজার প্রবণতা অনুসরণ করে তাদের লেনদেন পরিচালনা করেন। আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারের অবস্থা বিবেচনায় আরও দাম সমন্বয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



