আইএমএফের ঋণ কিস্তি ও নতুন সহায়তা চাইছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে ষষ্ঠ কিস্তি পাওয়ার পাশাপাশি নতুন ঋণ সহায়তা চাইছে। এ জন্য আইএমএফের শর্ত পূরণের অঙ্গীকার করবে সরকার, যার মধ্যে অন্যতম হলো একক ভ্যাটহার চালু করা। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশের ১৪ সদস্যের একটি দল অংশ নিয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, এবং ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।
ঋণ সহায়তা ও শর্ত পূরণ
বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ থেকে ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার ছাড় চাইছে, যা জুলাইয়ে মিলতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি ডলার সহায়তারও আবেদন থাকতে পারে। আইএমএফের শর্তের মধ্যে রয়েছে রাজস্ব খাত সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, এবং ১৫ শতাংশ একক ভ্যাটহার চালু করা। বর্তমানে ভ্যাট হার ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫ শতাংশে বিভক্ত।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও আলোচনা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি রয়েছে; গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে ঘাটতি ছিল ৭২ হাজার কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতি মার্চে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছে, কিন্তু রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। আইএমএফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি থেকেও ঋণ নিয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞ সেলিম রায়হান বলেন, "ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কার জরুরি; আইএমএফের সঙ্গে দর-কষাকষির ওপর বাড়তি সহায়তা নির্ভর করবে।"
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আইএমএফের মে মাসের মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুলাইয়ে ঋণ কিস্তি মিলতে পারে। সরকার ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস করায় আপাতত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে, কিন্তু রাজস্ব নীতি অধ্যাদেশ বাতিল করায় নতুন আইনের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আইএমএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনা এগিয়ে নেবেন।



