৫০ বছর পর রেলওয়ের টিকেটের ঋণ শোধ করলেন মফিজুল ইসলাম
৫০ বছর পর রেলওয়ের টিকেটের ঋণ শোধ করলেন মফিজুল

৫০ বছর পর রেলওয়ের টিকেটের ঋণ শোধ করলেন মফিজুল ইসলাম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম (৬০) একটি অসাধারণ নৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি প্রায় ৫০ বছর আগে টিকেট ছাড়া ট্রেনে যাতায়াতের ঋণ শোধ করতে রেলওয়েতে ২০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। গত ২৮ মার্চ শ্রীপুর রেলস্টেশনে বিশেষ রশিদের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়, যা তার দীর্ঘদিনের বিবেকের দায়বদ্ধতা পূরণ করেছে।

কিশোর বয়সের ব্যবসা ও ট্রেন যাত্রার স্মৃতি

মফিজুল ইসলামের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একটি গভীর ব্যক্তিগত ইতিহাস। তিনি কিশোর বয়সে কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেছিলেন এবং নিয়মিত শ্রীপুর থেকে ঢাকায় ট্রেনে যাতায়াত করতেন। তবে সেই সময়ে তিনি টিকিট কাটতেন না, বরং ট্রেনের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হাতে ১-২ টাকা দিতেন। এই ঘটনা ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে ঘটে, যা এখন তার মনে একটি ঋণের অনুভূতি তৈরি করেছিল।

মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই-তিন বছর টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করছি। পুলিশের হাতে টাকা দিছি ঠিকই; কিন্তু রেল কোম্পানি তো আমার কাছে টাকা পায়। অনেক দিন ধরেই মনে হচ্ছিল, এই টাকাটা আমার পরিশোধ করা দরকার। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম।’ এই চিন্তা থেকেই তিনি শ্রীপুর রেলস্টেশনে যোগাযোগ করেন এবং সহকারী স্টেশন মাস্টারের কাছে ২০ হাজার টাকার টিকিটের অনুরোধ জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেলওয়ের আইনি বিধান ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান এই ঘটনাকে একটি চমৎকার মানসিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘রেলওয়েতে এভাবে পুরোনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান আছে। মফিজুল সাহেব এসে যখন বিষয়টি খুলে বললেন, আমরা তাঁর মানসিকতায় মুগ্ধ হয়েছি। তিনি দায়মুক্ত হতে চেয়েছেন। এটি সত্যিই চমৎকার মানসিকতার দৃষ্টান্ত।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মফিজুল ইসলাম বর্তমানে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামে ব্যাপারীবাড়ি ফাতেমাতুয যাহেরা মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তার এই নৈতিক সততা সমাজে একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে।

এই ঘটনা শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়, বরং এটি বিবেকের দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের একটি শক্তিশালী প্রকাশ। মফিজুল ইসলামের এই পদক্ষেপ অন্যান্য ব্যক্তিদেরও তাদের দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত।