মার্চ মাসে অর্থনীতির গতি শ্লথ: পিএমআই সূচক কমে ৫৩.৫ পয়েন্টে
বিদায়ী মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা কমেছে। উৎপাদন খাত সংকোচনের ধারায় চলে যাওয়া এবং কৃষি ব্যবসা খাতের গতি কমে যাওয়ার কারণে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়েছে।
পিএমআই সূচকের হ্রাস: অর্থনৈতিক সংকোচনের ইঙ্গিত
পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী মার্চ মাসে সূচকটি আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৫ পয়েন্টে। ফেব্রুয়ারিতে এই সূচক ছিল ৫৫ দশমিক ৭ পয়েন্ট এবং জানুয়ারিতে ছিল ৫৩ দশমিক ৯ পয়েন্ট।
ব্যবসায়ী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রতি মাসে এই সূচক প্রকাশ করে। বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্চ মাসের পিএমআই প্রকাশ করা হয়।
পিএমআই সূচক মূলত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। শূন্য থেকে ১০০ স্কেলে এটি পরিমাপ করা হয়। সূচকের মান ৫০-এর বেশি হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয় এবং ৫০-এর নিচে নেমে গেলে তা সংকোচন বোঝায়।
চারটি প্রধান খাতের জরিপ: উদ্যোক্তাদের মতামত
অর্থনীতির চারটি প্রধান খাত— কৃষি ব্যবসা, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতের প্রায় ৪০০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। কাঁচামাল ক্রয়, নতুন ক্রয়াদেশ, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সূচকের তথ্য বিশ্লেষণ করে পিএমআই তৈরি করা হয়।
জরিপে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলোতে বর্তমানে ব্যবসায়িক পরিবেশ মিশ্র অবস্থায় রয়েছে। রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে মৌসুমি চাহিদা কিছুটা বাড়ায় সেবা ও খুচরা খাতে বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন ও ইউটিলিটি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে নতুন ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে জরিপে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা যেমন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, তেমনি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানী অবস্থান নিয়েছে। বৈশ্বিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও ব্যবসায়িক আস্থাকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
ভবিষ্যতের আশা: স্থিতিশীলতা প্রয়োজন
তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া অনেক উদ্যোক্তা।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, "গত মাসের পিএমআই সূচক ইঙ্গিত করছে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে, যার প্রধান কারণ উৎপাদন খাতে মন্দা। দীর্ঘ ছুটি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা এই খাতে প্রভাব ফেলেছে।"
তিনি আরও বলেন, "চলমান সংঘাতের ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।"



