মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির প্রভাবে বাংলাদেশে সোনার দাম বেড়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশের সোনার বাজারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ বুধবার সকাল ১০টায় নতুন দাম ঘোষণা করেছে, যাতে ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেড়েছে। এই দাম বৃদ্ধি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, যা গত সোমবারের সর্বশেষ দাম বৃদ্ধির পর আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
নতুন সোনার দামের বিস্তারিত
নতুন দাম অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা, যা আজকের তুলনায় কম ছিল।
দাম বৃদ্ধির পরিমাণ
গতকালের তুলনায় আজকের দাম বৃদ্ধির হিসাব নিম্নরূপ:
- ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা।
- ২১ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে ভরিতে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বেড়েছে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।
রুপার দামেও বৃদ্ধি
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে, যাতে ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো মানের ২২ ক্যারেট রুপার ভরি দাম আজ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। এই পরিবর্তন সোনার বাজারের অনুরূপ প্রবণতা প্রতিফলিত করে।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
যুদ্ধবিরতির কারণে বিশ্ববাজারের স্পট মার্কেটে আজ বেলা পৌনে ১১টায় প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৯৮ ডলার। এই দাম গতকালের চেয়ে ১৩৮ ডলার বেশি, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব নির্দেশ করে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী সোনার দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, এবং বাংলাদেশের বাজারে তা দ্রুত প্রতিফলিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির এই দাম ঘোষণা বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে, যাতে তারা বাজার অবস্থা বুঝতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সোনার দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে, যা স্থানীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলবে।



