বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর হার কমানোর জোরালো দাবি
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে করপোরেট কর হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফরেন চেম্বার)। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে কর হার বেশি, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাধা সৃষ্টি করছে।
ফরেন চেম্বারের মূল প্রস্তাবসমূহ
আজ সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ফরেন চেম্বার নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করে:
- করপোরেট কর হার কমানো: বর্তমান সাড়ে ২৭ শতাংশ হার কমিয়ে প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রাখার আহ্বান।
- মূসক হার হ্রাস: মূসকের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ।
- অগ্রিম আয়কর কমানো: উৎপাদনশীল খাতের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব।
ফরেন চেম্বারের সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘কোভিড-পরবর্তী সময়ে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে বহু খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। তাই সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা জরুরি।’
এনবিআরের প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান প্রস্তাবগুলো শোনার পর বিভিন্ন বিষয় বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘অন্যান্য দেশের কর আদায়ের হার আমাদের তুলনায় কম হতে পারে, কিন্তু আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপট ও রাজস্ব চাহিদা রয়েছে।’ তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, ‘এটি আরও বাড়ানো যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।’
করছাড়ের প্রভাব নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, ‘গত ৫০ বছরে দেওয়া করছাড়ের ফলাফল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।’
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মতামত
ফরেন চেম্বারের পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া উল্লেখ করেন যে, ২০২১-২২ অর্থবছরে করছাড়ের পরিমাণ জিডিপির ৬.৮ শতাংশ ছিল, যা রাজস্ব আহরণের প্রায় সমান। তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কম কর হারের দেশে আকৃষ্ট হন, তাই বাংলাদেশের কর কাঠামো প্রতিযোগিতামূলক করা প্রয়োজন।’
ফিকির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী গাড়ির লাইসেন্স ও মূসক রিটার্নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন। তিনি দাবি করেন, ‘ফরেন চেম্বার থেকে ২২টি খাতে মোট রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ প্রদান করা হয়।’
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ওরাকলের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা সতর্ক করে বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিনিয়োগ সতর্কতার মধ্যে করের অতিরিক্ত চাপ দ্বিতীয় অভিঘাত সৃষ্টি করতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি ডেটাবেজ তৈরি করতে ৬৯ শতাংশ কর দিতে হয়।
রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা সিমকার্ড বদলের ক্ষেত্রে নতুন সিমের মতো কর ধার্য না করার আহ্বান জানান।
এই আলোচনায় ফরেন চেম্বারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে বাজেট প্রস্তাবনা জোরদার করেন, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।



