রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআর-এর নতুন পরিকল্পনা: সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার কর চালু হতে পারে
দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) পুনরায় চালু এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ওপর ‘ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স’ (উত্তরাধিকার কর) আরোপের পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন।
সম্পদ কর চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উল্লেখ করেন যে, সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদশালী ব্যক্তিদের ওপর ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ আরোপের বিষয়টি সরকার বর্তমানে গভীরভাবে বিবেচনা করছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ওয়েলথ ট্যাক্স চালু করা গেলে আয়করের বাইরে সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক রাজস্ব আয় বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এই পদক্ষেপটি রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উত্তরাধিকার কর আরোপের প্রস্তাবনা
চেয়ারম্যান আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে বিপুল সম্পদ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর হয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশেও উচ্চমূল্যের সম্পত্তি— বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকার সম্পত্তি, পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরের সময় উত্তরাধিকার কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন যে, মিউটেশনের আগে এই কর আরোপ করা যেতে পারে, যা রাজস্ব আদায়ে নতুন একটি উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
রাজস্ব ব্যবস্থায় সুশাসন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআর চেয়ারম্যান দুর্নীতি ও ফাঁকফোকর বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে এবং সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা গেলে রাজস্ব ফাঁকি কমবে এবং আদায় বাড়বে। এছাড়াও, অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করার কথাও জানান তিনি। ভ্যাটের ক্ষেত্রে ঝুঁকিভিত্তিক ২০টি অডিট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আদায় প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে।
আয়কর খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে শতভাগ অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা চালু হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন রাজস্ব আদায়কে সহজতর এবং স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এনবিআর-এর এই পরিকল্পনাগুলো দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



