নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে কঠোর আর্থিক ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন সরকারকে কঠোর আর্থিক বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মেলনকেন্দ্রে ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই পরামর্শ দেন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাজেট কাঠামো
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে নতুন সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় করার আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যও চাপের মুখে রয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা আগের আর্থিক দুর্বলতাগুলোকে আরও প্রকট করেছে, তাই সরকারকে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নির্দয় হতে হবে।
স্বল্পমেয়াদি রূপরেখা ও ভর্তুকি সামঞ্জস্যের সুপারিশ
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারকে স্বল্পমেয়াদি রূপরেখা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, তিন-চার মাসের জন্য একটি দ্রুত রূপরেখা প্রণয়ন করা জরুরি। এটিকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে তিন বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো করা যেতে পারে। তিনি সরকারের ব্যয় কমাতে ভর্তুকি সামঞ্জস্য করারও পরামর্শ দেন।
ভর্তুকির সুবিধা দরিদ্র নাকি ধনী মানুষ পাচ্ছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে নগদ প্রণোদনা দুই-তিন ধাপে কমিয়ে আনার কথা বলেন তিনি। এছাড়া, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) পর্যালোচনার জন্য টাস্কফোর্স গঠন এবং এক-দেড় মাসের মধ্যে এডিপি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সুপারিশ করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মতকরণ ও কর সংস্কারের আহ্বান
পরাবাস্তব বাজেট না করার ওপর জোর দিয়ে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত হতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানে যে, বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। তাই বাজেটের আকার আগের চেয়ে ছোট হলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে বলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কর অবকাশের সুবিধা বাদ দিতে হবে এবং কর কমিয়ে করজাল বৃদ্ধি করতে হবে। কর আদায়ে ডিজিটালাইজেশন ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সম্পদের ওপর কর বসানো এবং এনবিআরকে দুই ভাগ করার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার মত দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
এই মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী নাজিবা মোহাম্মদ আলতাফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নতুন বাজেট প্রণয়নে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।



