গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার সংসদে বলেছেন, সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নতুন উন্নয়ন প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করা হচ্ছে।
আগের সরকারের প্রকল্পে বাস্তবায়ন সংকট
সংসদে শাসকদলীয় সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া (দিনাজপুর-৪) এর একটি পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আগের সরকারগুলোর সময় গৃহীত ৫০০টিরও বেশি প্রকল্প ১০ শতাংশও বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়াও প্রায় ১,৩০০ প্রকল্প বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে, যেগুলোতে অপচয় ও দুর্নীতির বিষয় জড়িত।
মন্ত্রী বলেন, "এই তথ্য সরকারি নথির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেহেতু প্রকল্পগুলো আগের সরকারগুলোর সময় গৃহীত হয়েছিল, তাই এ বিষয়ে আর মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত।"
বর্তমান সরকারের প্রকল্পে গ্রামকেন্দ্রিক ফোকাস
অর্থমন্ত্রী অবশ্য বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গৃহীত প্রকল্পগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলো গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে।
"যদি আমরা গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে চাই এবং গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করতে চাই, তাহলে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হতে হবে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন," তিনি সংসদে বলেন।
ব্যবহারিক ও জনমুখী প্রকল্প গ্রহণ
খসরু বলেন, সরকার ব্যবহারিক ও জনমুখী প্রকল্প গ্রহণের কাজ করছে, যা সরাসরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে এবং দেশজুড়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। তিনি সংসদ সদস্যদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে উন্নয়ন প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, "যদি কোনো প্রকল্প স্থানীয় জীবিকা ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্য ও উপকারী বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে ভবিষ্যত বাস্তবায়নের জন্য তা বিবেচনা করা হবে।"
ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও গ্রামীণ উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে সরকার আরও ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক খবর দিতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, সরকারের প্রচেষ্টা গ্রামীণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংসদে এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন কৌশল এবং আগের সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন সংকটের চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সরকারের নতুন প্রকল্পগুলো কীভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তা নিয়ে এখন সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।



