আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের উত্থান, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা প্রধান কারণ
স্বর্ণের দামে ফের উত্থান, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা কারণ

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের উত্থান

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৫০৫.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে, এপ্রিল মাসে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে ৪,৫৩৫.৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

মার্কিন ডলারের দুর্বলতা প্রধান চালিকা শক্তি

এই উত্থানের পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মার্কিন ডলারের দুর্বলতাকে। যখন ডলারের মান কিছুটা কমে যায়, তখন ডলারভিত্তিক পণ্যগুলো অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠে, যা স্বর্ণের মতো সম্পদের চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এবিসি রিফাইনারির ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেল ব্যাখ্যা করেন, "গত সপ্তাহে স্বর্ণের দামের গতিবিধি ইঙ্গিত দেয় যে, বাজারে অতিরিক্ত বিক্রির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং সাম্প্রতিক পতনের পর একটি সম্ভাব্য ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলছে।" তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই প্রবণতা নিশ্চিত করতে চলতি সপ্তাহের বাজার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি উদ্বেগ

এদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সপ্তাহান্তে ইসরাইলে হামলা চালানোর পর বৈশ্বিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। মার্চ মাসে তেলের দাম ইতোমধ্যেই প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা মাসিক হিসাবে একটি রেকর্ড বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে, ফলে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সংঘাত শুরুর আগে যেখানে দুইবার সুদহার কমার প্রত্যাশা ছিল, এখন সেখানে সে সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

সুদহার ও স্বর্ণের সম্পর্ক

সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে উচ্চ সুদহার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা কমিয়ে দেয়। চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ইতোমধ্যে ১৪ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডলারের মান ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ফ্রাপেল আরও উল্লেখ করেন, "স্বর্ণের দুর্বল পারফরম্যান্সের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে সুদহার প্রত্যাশায় বড় ধরনের পরিবর্তন, যার প্রভাবে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে।"

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর অবস্থা

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে:

  • স্পট রূপার দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮.৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে
  • প্লাটিনামের দাম ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৯০৯.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে
  • প্যালাডিয়ামের দাম ৩.২ শতাংশ বেড়ে ১,৪২০.৬৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারকে প্রভাবিত করতে থাকবে।