বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ বৃদ্ধি, ডলারের দুর্বলতায় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি: ডলারের দুর্বলতায় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে, মূলত ডলারের কিছুটা দুর্বলতার প্রভাবে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আবার স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে এই মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে।

স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দামের অবস্থা

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২:৩৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪,৪৬৬.৩৮ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৫ শতাংশ কমেছে, যা সামগ্রিক প্রবণতায় কিছুটা বৈপরীত্য দেখায়। এপ্রিল মাসে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ১.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৪৬১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা বাজারের ইতিবাচক মনোভাবকে প্রতিফলিত করে।

ইতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষকদের মতামত

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, 'গত কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণ মূলত তরল সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে বর্তমান দামে এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে আবার আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও যোগ করেন, 'তেলের দামের কারণে দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যদি এই সতর্কতা না থাকত, তবে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারত, যা বর্তমান প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করত।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামের অবস্থা

স্বর্ণ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। রুপার দাম ৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭০.১০ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৮৯১.০২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩.৩ শতাংশ বেড়ে ১,৩৯৮.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বৃদ্ধিগুলো বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামও নির্ধারিত হয়েছে, যা ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) অনুযায়ী গণনা করা হয়। বর্তমানে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২,৩৪,৮৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ২,২৪,১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১,৯২,১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১,৫৬,৪৭৩ টাকা। এই দামগুলি বিশ্ববাজারের প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।

সামগ্রিকভাবে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি ডলারের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের পরিবর্তনের ফলাফল। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি মুদ্রাস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে।