বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন: বাজুসের নতুন মূল্য নির্ধারণ
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আরেক দফা বড় পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬,৫৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
নতুন দামের বিস্তারিত তথ্য
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দাম অনুসারে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী দাম সমন্বয়ের ইতিহাস
এর আগে, গত ২৫ মার্চ সকালে বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৫,৪৮২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা ছিল।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৪৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ২৬ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ দফা কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
রুপার দামের অবস্থা
স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫,৩৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪,৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩,৩২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ২৯ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ১৩ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।
এই দাম সমন্বয়গুলি বাজারের অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজার প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজুসের এই সিদ্ধান্তে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।



