২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালো
বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলারে

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালো

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। এই পরিমাণ গত বছরের জুনের তুলনায় কিছুটা কমলেও, সেপ্টেম্বরের চেয়ে বেড়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণের অবস্থা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৮২ শতাংশ সরকারি খাতের অধীনে রয়েছে, যা ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের ঋণ ২০ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার

ঋণের মেয়াদ অনুযায়ী, ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি এবং ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ স্বল্পমেয়াদি। সরকারি ঋণের মধ্যে সরাসরি সরকারের নেওয়া অংশ ৮০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার, এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নেওয়া অংশ ১২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেসরকারি খাতে ঋণের পরিবর্তন

২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ ২০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা আগের তিন প্রান্তিকে হ্রাসের পর একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বাণিজ্যিক ঋণ ৬ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার

ঋণ পরিশোধের চাপ ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডলার সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ বহুজাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। তবে, আগের সরকারের সময় নেওয়া প্রকল্পগুলো থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন না হওয়ায় ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান ২৬৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার আসলেও, একই সময়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ২৬৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করে। সংকট মোকাবিলায় আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি ঋণ বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রিজার্ভের পতন থামানো সম্ভব হয় এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বৈদেশিক ঋণ ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা ২০০৮ সালে বেড়ে ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সালে এটি ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অন্তর্বর্তী সরকারের ঋণ নেওয়ার ফলে ২০২৫ সালে এটি ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়।