বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস: বাজুসের নতুন মূল্য নির্ধারণ
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা সারাদেশে কার্যকর হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম পাঁচ হাজার ৪৮২ টাকা কমে গেছে, নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়।
নতুন দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া ও কার্যকারিতা
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের একটি সভায় এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই সারাদেশে স্বর্ণের নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের হালনাগাদ মূল্য
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হবে দুই লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা। এই সমন্বয়গুলি ভোক্তাদের জন্য স্বর্ণ ক্রয়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
গত কয়েক দিনের দাম সমন্বয় ও বাজার প্রবণতা
এর আগে গত ১৯ মার্চ বাজুস দু’বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। পৌনে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে দু’বারে সোনার দাম ভরিতে কমে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা হয়েছিল। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৪৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২০ বার কমানো হয়েছে।
২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়। এই তথ্যগুলি ইঙ্গিত দেয় যে স্বর্ণের বাজার বেশ অস্থির এবং নিয়মিতভাবে দাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রুপার বাজার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত
স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা পাঁচ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট চার হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি তিন হাজার ৩২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই স্থিতিশীলতা রুপার বাজারে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজুসের এই সিদ্ধান্ত ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ দাম কমাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বাজারের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার, মুদ্রার মান ও স্থানীয় চাহিদার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতেও স্বর্ণের দামে ওঠানামা হতে পারে।



