পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে সোনার দামে ব্যাপক পতন, ভরিতে সর্বোচ্চ ৭,৬৪০ টাকা কমেছে
ঈদের আগে সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে ৭,৬৪০ টাকা কমেছে

পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে সোনার দামে ব্যাপক পতন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগমুহূর্তে আজ বৃহস্পতিবার দেশে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির ঘোষণায়, সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমেছে। এই পতনের ফলে প্রায় এক মাস পর আবার ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম আড়াই লাখ টাকার ঘরে ফিরে এসেছে।

জুয়েলার্স সমিতির ঘোষণা ও রুপার দামেও পতন

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ সকাল ১০টায় সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে ভরিতে ৩৫০ টাকা। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। গতকাল পর্যন্ত রুপার দাম ছিল প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা।

জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, দেশের বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। অলংকার কেনার সময় সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন দর অনুযায়ী সোনার মূল্য

নতুন দর অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।

গতকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর মানে আজকে ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট সোনায় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৭ হাজার ৩৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় ৫ হাজার ১৩২ টাকা কমেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশীয় ও বিশ্ববাজারের অবস্থা

দেশের বাজারে চলতি বছরের শুরুতে ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ২২ হাজার টাকা। ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। তারপর অবশ্য দামের উত্থান-পতন হলেও এই পর্যায়ে ওঠেনি।

বিশ্ববাজারে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই অস্থিরতা চলছে। সাধারণত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সোনার দাম বাড়ে। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময়েও সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেটা হচ্ছে, সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে আছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর পর থেকে সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।

বর্তমান বিশ্ববাজার ও বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদন লেখার সময় আজ নিউইয়র্কের স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮২০ ডলার। গতকালের চেয়ে এই দাম ৭০ ডলার কম। স্পট মার্কেটের দাম হচ্ছে তাৎক্ষণিক দাম। অর্থাৎ এই মুহূর্তে কেউ বিশ্ববাজার থেকে সোনা কিনতে চাইলে যে দামে কিনতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ধারায় ছেদ টানতে পারে। এমনকি তারা সুদের হার বাড়াতেও পারে, এমন সম্ভাবনা আছে।

এতে ডলারে বিনিয়োগ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সাধারণত ডলারের আকর্ষণ বাড়লে সোনার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। কেননা সোনায় বিনিয়োগ করে সুদ পাওয়া যায় না। এমনও দেখা যায়, সোনা ও ডলারের মূল্য একই সঙ্গে বৃদ্ধি পায়।

অর্থনীতিবিদ জেমস মিডওয়ে বলেন, বিনিয়োগকারীরা কিছুদিন ধরেই প্রত্যাশা করছেন, সুদের হার কমবে। আরেকটি কারণ হলো, বছরের শুরু থেকেই সোনার দাম বেশ চড়া ছিল। মিডওয়ে আরও বলেন, সোনার দাম আগেই এতটা বেড়েছে যে এখন যুদ্ধের প্রভাব সেভাবে পড়ছে না।