যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সরকার একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ মার্চ) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
কমিটির সদস্যবৃন্দ ও দায়িত্ব
মন্ত্রিসভা কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং খাদ্যমন্ত্রী। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা এবং বাংলাদেশের ওপর তার সম্ভাব্য প্রভাব সঠিকভাবে নিরূপণ করা। পাশাপাশি, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে কমিটি।
প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ এ কমিটিকে সচিবিক সহায়তা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের ঝুঁকি
বর্তমানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে মিসাইল ও ড্রোন ছুড়ে হামলার জবাব দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এতে তেল-গ্যাস আমদানিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে দেশে মূল্যস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শ্রমবাজার অনিশ্চয়তায় পড়লে রেমিট্যান্স প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমতে পারে। লোহিত সাগরের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় ও সময় বাড়ায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও চাপে পড়তে পারে। এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা বিকল্প আমদানি উৎস খোঁজা ও আগাম পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন।
কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম
মন্ত্রিসভা কমিটি দ্রুততার সাথে কাজ শুরু করবে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কমিটি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করবে এবং সরকারকে উপযুক্ত পরামর্শ প্রদান করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হচ্ছে।
