প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন, ৩৭ হাজার পরিবার পাবে মাসিক আড়াই হাজার টাকা
ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন, ৩৭ হাজার পরিবার পাবে মাসিক ভাতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন, ৩৭ হাজার পরিবার পাবে মাসিক আড়াই হাজার টাকা

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২০ দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগের আওতায় সরকার ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করবে, যা দেশের দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, যা কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত, একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি কয়েকজন নারী সুবিধাভোগীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন, যা এই উদ্যোগের প্রতীকী গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, যা কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে তোলে।

পাইলটিং পর্যায়ে কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া

পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের কাজ আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন এবং ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সংগৃহীত তথ্যগুলো ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির মাধ্যমে অধিকতর যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

সুবিধাভোগী নির্বাচন ও কার্ডের ব্যবহার পদ্ধতি

সোমবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫টি খানার তথ্য সঠিকভাবে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনের মতো বিষয়গুলো যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে কোনও ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে দাবি করা হয়েছে, যা কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার একটি করে আধুনিক কার্ড পাচ্ছে, যাতে স্পর্শবিহীন চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি (নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্ডটিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি কার্ড বণ্টন করা হচ্ছে। তবে, সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ডের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনও সরকারি ভাতা পান, তবে সেই সুবিধা বাতিল হবে, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

ভাতা বিতরণ ও আর্থিক বরাদ্দের বিশদ বিবরণ

প্রাথমিক পর্যায়ে সুবিধাভোগীরা মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন। পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে, যা পরিবারগুলোর পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা হবে, যাতে কোনও ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা বিলম্বের সুযোগ থাকবে না।

পাইলটিং পর্যায়ে আগামী জুনের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং বাকি টাকা অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতির কাজে ব্যয় হবে। কর্মসূচিটি পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার, যা এই উদ্যোগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।