বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ক্রয় অব্যাহত
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কিছুটা কমে এলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার ক্রয় বন্ধ করেনি। রেমিট্যান্স প্রবাহের দৃঢ় প্রবৃদ্ধি এবং বাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও ডলার ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এটি কেবল একটি তাৎক্ষণিক বাজার স্থিতিশীলতা পদক্ষেপ নয়; বরং রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ এবং মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশলগত উদ্যোগ।
ডলার ক্রয়ের পরিসংখ্যান ও হার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২৩ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। এই ক্রয়ের ক্ষেত্রে কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ডলারে ১২২.৩০ টাকা। এর ফলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এ পর্যন্ত মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৪৪৮ মিলিয়ন ডলারে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ হয়েছে ৫,৩৮১.৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে তা রিজার্ভে যুক্ত করার মাধ্যমে সংগ্রহ করছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
ডলার ক্রয়ের পেছনে একটি প্রধান কারণ হলো প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি। ১৯ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই তিন দিনে দেশে ১৮২ মিলিয়ন ডলার প্রবেশ করেছে। আর ১ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২.৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১.৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এই সময়ে রেমিট্যান্সে ২০.৬% প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২.১৭৪ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে একই সময়ে এটি ছিল ১.৭৮৭ বিলিয়ন ডলার। এভাবে অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১.৬%।
ডলার ক্রয়ের পেছনের কারণ ও প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রপ্তানি আয়ের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাজারে ডলারের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং অতিরিক্ত অস্থিরতা রোধ করতে বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে।
একদিকে এটি রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা করছে, অন্যদিকে বাজারে অতিরিক্ত টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখছে। কারণ ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের কিছুটা তারল্য শোষণ করতে পারে।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার ক্রয় অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কিনা তা নির্ভর করবে রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি চাহিদা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপের উপর। যদি রেমিট্যান্স প্রবাহ দৃঢ় থাকে এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে রিজার্ভ আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, চিত্রটি ইঙ্গিত দেয় যে ডলার সংকটের তীব্র সময়ের পর বাজার এখন কিছুটা শিথিল হয়েছে। আর সেই সুযোগেই বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও ডলার ক্রয় করছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
