বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি মঙ্গলবার সংসদে স্বতন্ত্র সাংসদ রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন।
ঋণের বিস্তারিত হিসাব
অর্থমন্ত্রী বলেন, "ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।" সংসদের বৈঠকটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় শুরু হয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের পক্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। প্রতিটি অর্থবছরে, মূল ও সুন্দসহ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের মোট ব্যয় অনুমান করার জন্য একটি পূর্বাভাস প্রস্তুত করা হয় এবং জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়।
ঋণ পরিশোধ ও বরাদ্দের প্রক্রিয়া
সূচিবদ্ধ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সারা বছর ধরে বাজেট বরাদ্দ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে। ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য মো. শামসুর রহমান সিমুল বিশ্বাস (পাবনা-৫) এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, ২০০৮-০৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার মোট প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে।
একই সময়ে, সরকার ২২,৩২৮.৪৭ মিলিয়ন ডলার মূল এবং ৮,৬৯৬.৮২ মিলিয়ন ডলার সুদ পরিশোধ করেছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৭,২৭৯.১২ মিলিয়ন ডলার (৭৭ বিলিয়ন ডলার)।
ঋণ বৃদ্ধির চিত্র
অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০০৭-০৮ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার মোট ৮৭,৩৯৬.০৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে এবং ২২,০৫০.৭৯ মিলিয়ন ডলার মূল পরিশোধ করেছে। এর ফলে, এই সময়কালে দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬৫,৩৪৬.২৪ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি যোগ করেন।
এই তথ্যগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও ঋণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে, যা সংসদীয় আলোচনায় উঠে এসেছে।



