এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, ঘাটতি ৯৮ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে একটি বড় ধরনের ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে সরকারি তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো, একই সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় মোট রাজস্ব আদায়ে ১১.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা নির্দেশ করে।
লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের বিস্তারিত হিসাব
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এনবিআর কর্তৃক প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যানুসারে, আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধান রাজস্ব খাতগুলিতে ঘাটতির চিত্র
এনবিআরের প্রধান তিনটি রাজস্ব খাত—আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আয়কর—কোনোটিতেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এই খাতগুলিতে ঘাটতির বিস্তারিত হিসাব নিম্নরূপ:
- আয়কর খাত: এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা, যা সবচেয়ে বেশি।
- আমদানি শুল্ক খাত: লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা, সেখানে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। এই খাতে ঘাটতি হয়েছে ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।
- ভ্যাট খাত: লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও মার্চ মাসের অবস্থা
যদিও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, তবুও সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই–মার্চ) রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকায়, যা থেকে ১১.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
এদিকে, শুধু মার্চ মাসের হিসাবেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সংশোধিত লক্ষ্য ছিল ৬০ হাজার ৫০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। ফলে এই মাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। তবে মার্চ মাসেও আগের বছরের তুলনায় ২.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সামগ্রিক প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে এনবিআর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য নতুন কৌশল ও পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে কার্যকর নীতি ও মনিটরিং জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।



