প্রেমের সম্পর্ক না মেনে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ায় নাটোরে ১৫ বছরের কিশোরীর আত্মহত্যা
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় শাহিনা আক্তার নীরা (১৫) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার তার প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নিয়ে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে নীরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মৃত নীরা উপজেলার চক বড়াইগ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাবুর্চি নীলা খাতুনের বোন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলার বাগডোব এলাকার এক তরুণের সঙ্গে নীরার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
পরিবারের সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি এই সম্পর্কটি জানাজানি হলে নীরার পরিবার এটিকে মেনে নিতে রাজি হননি। বরং তারা তাকে ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এই সিদ্ধান্তে নীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ কোয়ার্টারে তার বড় বোনের বাসায় যান। সেখানে তিনি ফ্যানের সঙ্গে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তার দুলাভাই জানালা দিয়ে তাকে দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য
চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নীরার লাশটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক চাপের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও তাদের পছন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বও এই ট্র্যাজেডির মাধ্যমে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।



