স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষার্থীদের কসরত ও স্বাধীনতার গভীর অর্থ
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে রাঙামাটির চিংহ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেছে। ২৬ মার্চের এই আয়োজনে ছবি তুলেছেন সুপ্রিয় চাকমা। তবে, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ শুধু এই অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
স্বাধীনতা কোনো ঘোষিত শ্রেষ্ঠত্ব নয়
আমার স্বাধীনতা কোনো ঘোষিত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নয়, হাজার বছরের অহংকারের ইতিহাসে নাম লেখানোর অভিপ্রায়ও নয়। এটি কোনো স্লোগান-চালিত বিদ্রোহ নয়, না ইতিহাসের পাতা প্রতিবছর বদলে দেওয়ার কৃত্রিম উচ্চারণ। ক্ষমতার প্রাসাদ ঘিরে যে বন্দনার উল্লাস, তার সঙ্গেও আমার স্বাধীনতার কোনো আত্মীয়তা নেই।
লোকজ মাটিতে প্রোথিত স্বাধীনতার শিকড়
আমার স্বাধীনতার শিকড় লোকজ মাটিতে প্রোথিত—যেখানে প্রান্তিক এক বুড়ো চাষি বুরো ধানে জল দেবে বলে তেলের অভাবে হাহাকার করে, যেখানে আলুচাষি কোল্ডস্টোরেজের বারান্দায় বসে নিজের অশ্রু ঝরায়। এবং পাম্প থেকে পাম্পে ঘুরে বেড়ানো এক বাইক রাইডারের নিরাশ মুখে যে ক্লান্তি জমে ওঠে, সেসব দিশাহারা মানুষের ক্লান্তি মুছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই আমার স্বাধীনতা।
ক্ষুধার্ত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই স্বাধীনতা
আমার স্বাধীনতা সেই নিস্তব্ধ রাতের, যেখানে এক বৃদ্ধা ভাতের ফেন দিয়ে ক্ষুধার আগুন নিভিয়ে রাখে, সেই ডাস্টবিনের পাশটায়, যেখানে পথহারা এক পাগল মানুষ বড়লোকের ফেলে দেওয়া বিরিয়ানিতে জীবন খুঁজে পায়, সেই পথশিশু, যার ক্ষুধার্ত দেহকে নির্দয় মশকেরা রাতজুড়ে খুবলে খায়। তাদের একমুঠো ভাতের অধিকার নিশ্চিত করাই আমার স্বাধীনতার সরব ভাষা।
দুর্ঘটনা ও দুঃখ লাঘবের কর্মযজ্ঞ
আমার স্বাধীনতা পদ্মা নদীর গভীরতায় ডুবে যাওয়া বাসের আর্তনাদে প্রতিধ্বনিত হয়—গোয়ালন্দ ঘাটের সেই অন্ধকার জলে, যেখানে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হারিয়ে যায় বহু জীবন, আর জানালার ফাঁক গলে বেরিয়ে আসা এক শিশুর হাহাকার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সড়কে চলা অচল যান ব্যাটারিচালিত রিকশার ফাঁদে পা দিয়ে পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষের দীর্ঘশ্বাস। তাদের দুঃখ লাঘবের যে নিরন্তর, সত্যিকারের কর্মযজ্ঞ—সেখানেই আমার স্বাধীনতার ঘরবসতি।
নারীদের বিজ্ঞানমনস্কতা ও স্বাধীনতা
গায়ে রোদ লাগায় না বলে কখনোই ভিটামিন ডির সাক্ষাৎ পায় না যেই অবগুণ্ঠিত নারী। পুরুষপুরাণের আপ্তবাক্য গিলে দাসত্বের জীবনযাপন করে অস্টিওপরোসিসে ভোগে ক্ষয়িষ্ণু হাড় নিয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে অল্প বয়সেই ব্যথাতুর জীবন বহনে বাধ্য হয় যারা। সেসব জননীর মগজে বিজ্ঞানমনস্কতার বীজ পুঁতে দেওয়ার সাধনাই আমার দুর্ভেদ্য স্বাধীনতা।
আত্মনিয়ন্ত্রণের শৃঙ্খল ভাঙার সাহস
আমি লিখতে চাই মুক্ত আকাশে সফেদ মেঘের মতো—অবাধ, নির্ভীক। কিন্তু শব্দের ভেতর ঢুকে পড়ে এক অদৃশ্য ভয়, বলে—‘বাঁচতে চাইলে থেমে যাও।’ এই আত্মনিয়ন্ত্রণের অদৃশ্য শৃঙ্খল ভেঙে দিতে পারে যে সাহস, তার প্রতি অতল শ্রদ্ধাই আমার স্বাধীনতা।
বিলাসবহুল স্বপ্ন নয়, ভালোবাসাই স্বাধীনতা
আমার স্বাধীনতা কোনো বিলাসের স্বপ্ন দেখে না—না অর্থ, না পদ, না প্রভাবের অলংকার। পার্বত্য পাহাড়, হবিগঞ্জ কিংবা গাজীপুরের বিলাসবহুল রিসোর্টও তার কাম্য নয়। সুবিধাবাদ, লুটপাট, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, প্রতিহিংসা কিংবা ঘৃণার রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সন্ধি নেই।
অর্পিত কিংবা অনর্পিত দায়িত্বভার বুঝে নিয়েসর্বমানুষের প্রতি নিখাদ মায়া-মমতায় গড়াআমার স্বাধীনতার ছোট্ট নাম:ভালোবাসা।



