ঈদে নাতনিকে দেখতে না আসায় গৃহবধূর আত্মহত্যা, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মামলা
ফেনীর সোনাগাজীতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নানার বাড়ি থেকে কেউ নাতনিকে দেখতে না আসায় এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের অভিমান সহ্য করতে না পেরে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
রোববার (২২ মার্চ) রাত সাড়ে সাতটার দিকে সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের ফজলুল হকের নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মাইমুনা আক্তার রিয়া (১৯) নামের ওই গৃহবধূকে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রিয়া নিজের শয়নকক্ষে আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। রাত এগারোটার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
মামলা দায়ের
এ ঘটনায় মৃতের পিতা মো. ইব্রাহীম বাদী হয়ে গৃহবধূর স্বামী আরিফ হোসেন তারেক, তার পিতা মো. আলম ও মাতা শরীফা খাতুনকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
পটভূমি
পুলিশ ও এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের মীর্জা আলী বাড়ির রাজমিস্ত্রি মো. ইব্রাহীমের কন্যা মাইমুনা আক্তার রিয়াকে ভালোবেসে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন তারেক। তারেক সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মধ্যম আহমদপুর গ্রামের ফজলুল হকের নতুন বাড়ির মো. আলমের ছেলে।
২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের আট মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তারেক বেকার হওয়ায় বিভিন্ন সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপঢৌকন এনে দিতে রিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত তারেক ও তার পরিবারের লোকজন।
তাদের দাবি মোতাবেক নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপঢৌকনও দিতেন রিয়ার পরিবার। কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মেয়েকে নানা ইব্রাহীমসহ নানার বাড়ি থেকে কেউ দেখতে না আসায় রিয়ার সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন।
পুলিশের বক্তব্য
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনা সমাজে নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা ও পারিবারিক সহিংসতার দিকটি আবারও উন্মোচিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের উপর জোর দিয়েছেন।



