বিয়ের মেহেদি শুকানোর আগেই নববধূর মৃত্যু: হাটহাজারীতে মর্মান্তিক ঘটনা
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় বিয়ের মাত্র ৪৯ দিন পর নববধূ ঝুমা আক্তার (১৯) মৃত্যুবরণ করেছেন। হাতের মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় নিহতের পরিবারের তীব্র অভিযোগ, ঝুমাকে তার স্বামীর পরকীয়ার বলি হতে হয়েছে এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি তদন্ত
গত ১৯ মার্চ দুপুরে হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকার পশ্চিমে চসিক ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার শয়নকক্ষ থেকে ঝুমার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওই ঘটনায় ঝুমার স্বামী মো. নেওয়াজ শরীফ প্রকাশ বাবু (৩১)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২২ মার্চ রোববার নিহত ঝুমার পিতা মো. শাহআলম বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য ও অভিযোগ
ঝুমার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ঝুমার স্বামীর সঙ্গে অন্য এক নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল এবং এর জেরে ঝুমাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ঝুমার বড় ভাই তৌহিদুল আলম বলেন, "আমি প্রবাস থেকে এসে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আমার শান্তশিষ্ট বোনের বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের এক মাস ১৯ দিন যেতে না যেতেই তাকে লাশ হতে হলো। আমার বোন আত্মহত্যা করেনি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।"
ঝুমার বড় বোন শামীমা আক্তার রুমি জানান, বিয়ের পর থেকে ঝুমার স্বামী স্বাভাবিক আচরণ করেননি। তিনি বলেন, "গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় ঝুমা তার স্বামীর একটি ভয়েস রেকর্ড পাঠায়, যেখানে স্বামীকে অন্য এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে শোনা যায়।"
স্বামীপক্ষের বক্তব্য ও দ্বন্দ্ব
ঝুমার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ঝুমা ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশনের গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঝুমার পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জোর দিয়ে বলছেন, পুলিশ ঝুমার দেহ শয়নকক্ষের বিছানা থেকে উদ্ধার করেছে, যা আত্মহত্যার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নিহতের পরিচয় ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঝুমা আক্তার হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের কারকনের পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মো. শাহআলমের কনিষ্ঠ কন্যা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। ঝুমার ভাই তৌহিদুল আলম প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সহিংসতা ও নববধূ নির্যাতনের একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান থাকলেও, পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ ও প্রমাণাদি নিয়ে গভীরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাটহাজারী মডেল থানা এই মামলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।



