প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারী দিবস বাণী: শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারী দিবস বাণী: নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারী দিবস বাণী: নারীর অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তায় সরকারের অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণী দিয়েছেন, যেখানে তিনি শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ৮ মার্চ রোববার দেওয়া এই বাণীতে তিনি নারীর নিরাপত্তাবিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ারও ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বাণীটি পোস্ট করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নারী দিবসের তাৎপর্য ও সরকারের প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি উল্লেখ করেন যে, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তিনি এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়, কারণ বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। বিশেষ করে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে ও বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়ার যুগান্তকারী ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে এটি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়। নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন, যা প্রধানমন্ত্রী একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে এবং নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর অঙ্গীকার করেছে:

  • স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা চালু করা
  • উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা
  • মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা

তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকার নারীর নিরাপত্তাবিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে।’ তিনি বিদ্যমান সমাজে সমতা, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নকে উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।