প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারী দিবস বার্তা: সাইবার হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: নারী সুরক্ষায় অগ্রাধিকার, সাইবার হয়রানি বন্ধে কঠোর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারী দিবস বার্তা: সাইবার হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি সাইবার বুলিং এবং অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার পালিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কথা বলেন।

নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। নারীরা সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দেশের টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে নারীদের অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ওপর।

সরকারের অঙ্গীকার: নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সকল স্তরে নারীদের সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারীরা রাষ্ট্রীয় সরকার ও রাজনীতির মূলধারা থেকে বাদ পড়ে থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জাতীয় সকল স্তরে নারীদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নারী শিক্ষা ও উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ

তারেক রহমান বলেন, “সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, মেয়েদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম প্রদান, ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি শাহেদ জিয়ার শাসনামলে ‘নারী বিষয়ক বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৮ সালে ‘নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের কথা স্মরণ করেন। পরে ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে এটি ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন, যা নারী ক্ষমতায়নের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য

এবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হচ্ছে “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, নারী ও কন্যার অধিকার সুরক্ষিত করুন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে। নারীর সমতা ও মুক্তির সংগ্রামসহ নারী অধিকার আন্দোলনকে স্মরণ করে এই দিবস পালিত হচ্ছে, যেখানে লিঙ্গ সমতা, প্রজনন অধিকার এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।