আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ: উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান
আজ রবিবার সারাদেশে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'ডিজিট অল: লিঙ্গ সমতার জন্য উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি'। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন, যেখানে তারা নারীর ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জাতিসংঘের ঘোষণা ও এবারের প্রতিপাদ্য
জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এবছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে 'সকল নারীর জন্য অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুযোগ'। বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে, পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্জনগুলোকে উদযাপন করা হবে।
দিবসটির উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য
এই প্রতিপাদ্যের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় সকলকে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা। এটি সহযোগিতা, সমর্থন ও সম্পদের ভাগাভাগির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করতে চায়, এই বার্তা দিয়ে যে নারীর উন্নয়ন সমাজ ও অর্থনীতির জন্য সমানভাবে উপকারী। দিবসটি পালনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও সংগ্রাম
১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টেক্সটাইল কারখানার নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের বিরুদ্ধে, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা দাবি করে এবং অমানবিক কাজের পরিবেশের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। তাদের মিছিলে সরকারি বাহিনী দমন-পীড়ন চালায়। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেতা ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে নিউইয়র্কে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক নারী সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন ক্লারা পরবর্তীতে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ৮ মার্চকে বার্ষিক আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। ১৭টি দেশের প্রায় ১০০ নারী প্রতিনিধি সেই সম্মেলনে অংশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে ১৯১১ সাল থেকে নারীর সমান অধিকারের দিন হিসেবে দিবসটি পালন করা হবে। বিভিন্ন দেশের সমাজতান্ত্রিকরা দিবস পালনে এগিয়ে আসেন এবং ১৯১৪ সাল থেকে ৮ মার্চ বহু দেশে উদযাপিত হতে শুরু করে।
বাংলাদেশে নানা কর্মসূচি
বাংলাদেশে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও সংগঠনও দিবসটি উপলক্ষে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন
- নারীর অর্জন ও সাফল্য তুলে ধরা প্রদর্শনী
- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যালি
- নারী উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি প্রদান
জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দেশগুলোকে দিবসটি পালনের আহ্বান জানায়। তারপর থেকে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে, যা ডিজিটাল যুগে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
