সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জলি তালুকদারের উদ্বেগ: 'পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিতে পরিবর্তন জরুরি'
সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জলি তালুকদারের উদ্বেগ

সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জলি তালুকদারের উদ্বেগ: 'পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিতে পরিবর্তন জরুরি'

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৮৭ জন নারী ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন সাতজন। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনজন নারী জায়গা পেলেও, মোট ভোটারের ৫১ শতাংশ বা তার বেশি নারী হওয়া সত্ত্বেও এই চিত্র উদ্বেগজনক।

রাজনীতির চরিত্র পরিবর্তনের আহ্বান

জলি তালুকদার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত সভায় বলেন, 'রাজনীতির এই চিত্র এবং এই সংসদ যদি পরিবর্তন না করা যায়, তাহলে নারীর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।' তিনি নেত্রকোনা-৪ আসনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও প্রশাসনিক কারসাজির মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে নারীরা প্রতিযোগিতা করতে পারেন না।

সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি

সিপিবির এই নেত্রী আরও বলেন, সংসদে সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারীকে ভয়ংকরভাবে পুরুষতান্ত্রিক পুরুষেরাই নির্বাচিত করেন, যা নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এ ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানান। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনাবলির পেছনের মূল কারণ রাজনীতি, এবং একটি দেশের রাজনৈতিক চরিত্রই নারীদের অবস্থা নির্ধারণ করে।

প্রগতিশীল শক্তির বিকল্পধারা গড়ে তোলার আহ্বান

জলি তালুকদার প্রগতিশীল শক্তিগুলোর আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে থাকার প্রবণতার বিরোধিতা করে বলেন, 'জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করে দেশ বাঁচানো বলে? এর চেয়ে একটা বিকল্পধারা যদি নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও আমরা গড়ে তুলতে পারতাম, দেশের অবস্থা পরিবর্তন হতো।' তিনি বিরোধী দলকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে নারী অধিকারের জন্য নতুন পথের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সারা হোসেনের তিন জায়গায় হয়রানি বিরোধী লড়াইয়ের আহ্বান

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, বাংলাদেশে পটপরিবর্তন হলেও প্রতিহিংসা ও হয়রানির রাজনীতি চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, জনপরিসর, কর্মস্থল ও পরিবার—এই তিনটি জায়গাতেই হয়রানির বিরুদ্ধে নারীসহ সবাইকে লড়াই করতে হবে। বৈষম্য নিরসনে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যান্য বক্তাদের মতামত

আলোচনা সভার শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি দত্ত একটি ধারণাপত্র তুলে ধরেন। চিকিৎসক আখতার বানু, সিপিবি ও কৃষক সমিতির সদস্য লাকী আক্তার, সিপিবির ঢাকা দক্ষিণের নারী শাখার সম্পাদক মমতাজ চক্রবর্তী এবং নারীনেত্রী কুলসুম প্রমুখ সভায় বক্তব্য দেন। 'আক্রমণ, বিদ্বেষ, আধিপত্যের বিরুদ্ধে নারীর সংগ্রাম ও আগামীর বাংলাদেশ' শিরোনামে সিপিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এই সভায় সভাপ্রধান ছিলেন জলি তালুকদার।