রাজশাহীর তানোরে মোবাইল ফোন না পেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে পড়ার ঘটনা
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে পড়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
কিশোরের পরিচয় ও ঘটনার পটভূমি
সুমন হোসেন (১৫) নামের ওই কিশোর চিমনা গ্রামের মাহাতাব হোসেনের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুমন বাকপ্রতিবন্ধী এবং বেশ কিছু দিন ধরে সে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আজ দিবো, কাল দিবো বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
শুক্রবার সকালে সুমন আবারও মোবাইল ফোনের দাবি করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পাওয়া যায় যে সে গ্রামের একটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে পড়েছে।
উদ্ধার অভিযান ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা প্রথমে কিশোরটিকে নামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এরপর তারা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেন। তানোর ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আব্দুল রউফ জানান, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরটিকে নেমে আসতে বললে সে রাজি হয়নি।
পরে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে সুমন খুঁটি থেকে নেমে আসতে সম্মত হয়। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার ওই বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তাকে নিরাপদে নামানো হয়। পুরো উদ্ধার অভিযানে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সুমনকে দেখতে পেয়ে দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বিষয়টি জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কিশোরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারের পর সুমনকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিবারের বক্তব্য ও সামাজিক প্রভাব
সুমনের বাবা মাহাতাব হোসেন বলেন, "সুমন বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার আবদারগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে নিই না। কিন্তু এবারের ঘটনা আমাদের সচেতন করেছে।"
এই ঘটনায় পুরো চিমনা গ্রাম ও তানোর উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আব্দুল রউফ বলেন, "এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্যদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে।"
