গাইবান্ধায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা, পুলিশের তদন্ত চলছে
গাইবান্ধায় গৃহবধূর আত্মহত্যা, পারিবারিক কলহের অভিযোগ

গাইবান্ধায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি হলেন শ্রীমতি মিতু রানী সরকার (২৫), যিনি একজন গৃহবধু হিসেবে পরিচিত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রাম থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি

মিতু রানী সরকার কোমরপুর এলাকার রিপন সরকারের স্ত্রী এবং একই এলাকার দুলাল মোহন্তের মেয়ে। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যা এই ঘটনাকে আরও করুণ করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী রিপন সরকারের সঙ্গে তার পারিবারিক কলহ চলছিল।

কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগ

বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী, স্থানীয়দের ভাষ্য থেকে জানা যায় যে রিপন সরকার বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী মিতু রানী সরকারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। একাধিকবার মারধরের পর মেয়ের বাবা দুলাল মোহন্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। সর্বশেষ বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে অভিমান থেকে মিতু আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে, তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনা গাইবান্ধা এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত জোরদার করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।