পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বেলেম অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক সাংস্কৃতিক ও উদ্যোক্তা প্রদর্শনী। বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন ‘উইমেন্স এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড কালচারাল নেটওয়ার্কিং এক্সিবিশন ২০২৬’ নামে পরিচিত। প্রবাসে বাংলাদেশি নারীদের সৃজনশীলতা, আত্মনির্ভরতা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আয়োজনের উদ্বোধন ও অংশগ্রহণ
বাংলাদেশি সংগঠন ‘গোল্ডেন ভিশন অ্যাসোসিয়েশন’, পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বেলেম জুন্টা দে ফ্রেগেসিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন করেন পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লায়লা মুনতাজেরী দীনা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত মারিয়ানা মিখাইলেঙ্কো, পানামার রাষ্ট্রদূত আর্মোনিয়া চেং, নাইজেরীয় দূতাবাসের প্রতিনিধি হারুনা মুসা এবং কাবো ভার্দের রাষ্ট্রদূত জাইদা সানচেস।
প্রবাসে নারীদের আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি
আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প, গয়না, ঘরসজ্জার সামগ্রী, উপহারপণ্য এবং দেশীয় খাবার প্রদর্শন করেন। প্রতিটি স্টলে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নান্দনিকতার ছাপ। মেলায় অংশগ্রহণকারী অনেক উদ্যোক্তা জানান, পরিবার ও পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন। সীমিত সুযোগের মধ্যেও তারা প্রবাসে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া
মেলা ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় দর্শনার্থী ও বিভিন্ন দেশের অতিথিরা বাংলাদেশি নারীদের সৃজনশীলতা ও উপস্থাপনায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। দর্শনার্থীদের অনেকেই উদ্যোক্তাদের পণ্য কিনে উৎসাহ দেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনেক অতিথি মন্তব্য করেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্যকে শক্তিশালী করে না, বরং পর্তুগিজ সমাজের কাছেও বাংলাদেশের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ
পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কার্যকর নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তারা নিজেদের পণ্য ও দক্ষতা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। আয়োজক গোল্ডেন ভিশন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুম মজুমদার জানান, একজন নারী উদ্যোক্তার সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পরিবার ও সমাজের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশি নারীরা যে দক্ষতা, মেধা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন, এই আয়োজন তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যের বর্ণিল উপস্থাপন
মেলার বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপন দেখা যায়। দেশীয় পোশাকের রঙিন সমাহার, হাতে তৈরি শিল্পপণ্য, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং নান্দনিক সাজসজ্জা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও এ আয়োজন ছিল শিক্ষণীয়। তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছেও বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচিতি তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
সফল আয়োজন নিয়ে আশাবাদ
আয়োজকরা অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতা করা সকল অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, উদ্যোক্তা, সংবাদকর্মী এবং কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা। সব মিলিয়ে, ‘উইমেন্স এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড কালচারাল নেটওয়ার্কিং এক্সিবিশন ২০২৬’ প্রবাসে বাংলাদেশি নারীদের উদ্যোক্তা সক্ষমতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কমিউনিটির ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।



