আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ হওয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চারটি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার বিকালে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব উপহার সামগ্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
উপহারের বিবরণ
চারটি শহীদ পরিবারের মোট ২৩ সদস্যের জন্য নতুন পোশাক দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি পরিবারকে কুরবানির জন্য একটি করে খাসি উপহার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক বস্তা চাল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, সয়াবিন তেল, সেমাই, নুডলস, চিনি, দুধ, লবণ, সাবান ও মেহেদিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়।
শহীদ পরিবারসমূহ
যেসব শহীদ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তারা হলেন: উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের বড়খাপন গ্রামের শাফায়েত মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ মিয়া (১৫), কৈলাটী ইউনিয়নের শ্যামপুর কৈলাটী গ্রামের মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. আহাদুল (১৬), কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) এবং রংছাতি ইউনিয়নের বরুয়াকোনা গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান।
শহীদদের ঘটনা
শহীদ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও সহিংসতায় প্রাণ হারান এসব তরুণ।
শহীদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। তার ডান হাত ও পিঠে তিনটি গুলি লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি গুলি বের করা হলেও পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাতে নিখোঁজ হন শহিদ আহাদুল। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের স্টোর রুমে তার লাশ শনাক্ত করেন। ঘটনাটি আজও পরিবারটির জন্য গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে।
শহীদ সোহাগ মিয়া জীবিকার তাগিদে রিকশা চালাতেন। ১৯ জুলাই রিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর রাজধানীতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য রিকশাচালকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। শহীদ পরিবারের প্রতি আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব রয়েছে। ঈদের আনন্দ যেন তারাও কিছুটা অনুভব করতে পারেন, সেই চিন্তা থেকেই এই উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও শহীদ পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



