চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মধ্যরাতে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ঘটনাস্থলে এখনও পুলিশ, এপিবিএন, র্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুরো এলাকা এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া রাত ১টার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আছে। শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভিকটিমকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা ভালো আছে। অভিযুক্তের যাতে উপযুক্ত শাস্তি হয়, পুলিশের পক্ষ থেকে যা করার সবই করবো।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় বিসমিল্লাহ ভবনের সিঁড়িঘরে চার বছরের এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে, পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে ঘটনাস্থলে যায় বাকলিয়া থানা পুলিশ। অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে আনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে।
ওই সময় পুলিশকে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যদের পিছু হটে ভবনের ভেতরে অবস্থান নিতে হয়। এ সময় জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড, ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ।
রাত সোয়া ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে একটি ভবন থেকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চলে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এরপরও উত্তেজিত লোকজন ঢাকা-চট্রগ্রাম সড়কে অবস্থান নেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড, ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ, বিক্ষোভকারীসহ দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটির কক্ষে শিশুটিকে রেখে মা পোশাক কারখানায় কাজে যান এবং বাবা রিকশা চালাতে বের হন। পরে তাদের মেয়েকে একা পেয়ে পাশের ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির (৩২) ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
এদিকে বিকেলে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটকের পর মনির হোসেন নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করছেন।
এছাড়া ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। তারা হলেন, মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। তারা জানিয়েছেন, ফেসবুক লাইভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে মামুনের কোমরে এবং নোবেলের হাতে ও পায়ে আঘাত লাগে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।



