জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’–এর ব্যানারে মৌন মিছিল হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও নারী শিক্ষার্থীদের লাগাতার যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে শহীদ মিনারের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলের বক্তব্য
শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অদ্রিজা দাস। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি দীর্ঘ ও চলমান নিরাপত্তাহীনতার সর্বশেষ প্রকাশ। প্রতিদিন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে নারী শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যেগুলোর অধিকাংশই কোনো কার্যকর প্রতিকার ছাড়াই চাপা পড়ে যায়। আমরা শুধু একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাস্তায় নামিনি, আমরা একটি দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার অবসান চাইছি।’
নারী নিরাপত্তা মঞ্চের আত্মপ্রকাশ
নারী নিরাপত্তা মঞ্চ নামের প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশের বিষয়ে অদ্রিজা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নারী নিরাপত্তা মঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মতো ভয়াবহ ঘটনার পর, আন্দোলন চলাকালীন একই ক্যাম্পাসে আরও তিনটি হয়রানির ঘটনা প্রমাণ করে যে এই নিষ্ক্রিয়তা কোনো ব্যতিক্রম নয়, এটি একটি পদ্ধতিগত সমস্যা। নারী নিরাপত্তা মঞ্চ বিশ্বাস করে, এই সংকটের একমাত্র সমাধান নারীদের ঐক্যবদ্ধ, সংগঠিত ও টেকসই প্রতিরোধ। তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’
প্রশাসনের প্রতি দাবি
অদ্রিজা দাস আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় আগ্রহী। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ হতে হলে প্রশাসনকে তার ব্যর্থতা স্বীকার করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট ও সময়বদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা আশ্বাসে আর সন্তুষ্ট নই, ফলাফল দেখতে চাই।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন। এর আগেও নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবি করে এক শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধও করেন।



