গাজর কাঁচা নাকি সেদ্ধ: স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো?
ইফতারে ফলমূল ও কাঁচা সবজির সালাদ রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ভাজাপোড়া খাবারের চেয়ে এ ধরনের খাবার অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। গাজর তেমনই একটি পুষ্টিকর সবজি, যা সালাদ না করেও টুকরা করে খাওয়া যায়। অনেকেই কাঁচা গাজর খেতে পারেন না বলে সেদ্ধ গাজর খেয়ে থাকেন, কারণ কাঁচা গাজরের চেয়ে সেদ্ধ গাজর দ্রুত হজম হয়।
সেদ্ধ বনাম কাঁচা গাজরের পুষ্টিগুণের তুলনা
টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান জানান, গাজরে বিটা ক্যারোটিন থাকে। গাজর যেভাবেই খাওয়া হোক, খাওয়ার পর দেহে এই বিটা ক্যারোটিন থেকে ভিটামিন এ তৈরি হয়। তবে গাজর সেদ্ধ বা ভাপানো হলে ভিটামিন এ পাওয়া সহজ হয়। অন্যদিকে, ভিটামিন সি উত্তাপে নষ্ট হয়ে যায়, তাই গাজর কাঁচা খেলেই এর ভিটামিন সি পুরোপুরি পাওয়া যায়।
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও হজমের বিষয়
গাজর সেদ্ধ বা ভাপানো হলে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেড়ে যায়। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হলো শর্করা রক্তে কত দ্রুত শোষিত হয় তার মাত্রা। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে ও কমে, যা স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক, বিশেষত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য। এই হিসাবে গাজর কাঁচা খাওয়াই ভালো।
গাজর কাঁচা খেলে এতে থাকা আঁশ শরীরের কাজে লাগে, কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো সহজ হয়। রমজান মাসে ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, তাই এই সময় কাঁচা গাজর খাওয়া উপকারী। পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। তবে সেদ্ধ করলে আঁশের কার্যকারিতা তুলনামূলক কম হয়।
বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত পরামর্শ
সব বিচারে গাজর কাঁচা খাওয়াই ভালো, তবে কাঁচা গাজর হজমে কারও কারও সমস্যা হতে পারে। তাই কাঁচা না খেয়ে অন্যভাবে খেলে যদি স্বস্তি পাওয়া যায়, তবে সেটিই করা উচিত। সেদ্ধ করলে ভিটামিন সি হারিয়ে গেলেও তা বিশাল ক্ষতি নয়, কারণ টক ফল কাঁচা খেয়ে ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করা যায়। একইভাবে আঁশসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার থেকে আঁশের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
ডায়াবেটিস থাকলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের বিষয়টি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, তবে এর মানে এই নয় যে সেদ্ধ, ভাপানো বা রান্না করা গাজর খাওয়া যাবে না। যেকোনোভাবেই হোক, খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর এই খাবার রাখা উচিত।
