পাবনায় নকল দুধ ও ঘি তৈরির অভিযোগে তিন প্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারে ডালডা, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট, সোডা এবং হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে নকল দুধ ও ঘি তৈরির অভিযোগে তিনটি দুগ্ধ উৎপাদনকারী এবং সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারে একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়, যেখানে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত রাসায়নিক, ভেজাল ডালডা এবং পাউডার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা কেয়া ডেইরিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট পাউডার এবং হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দিয়ে নকল দুধ তৈরির স্পষ্ট প্রমাণ পান। এ সময় কেয়া ডেইরির স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা কেয়াকে নকল দুধ তৈরির দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সরকারি পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, "পাবনার ফরিদপুরের ডেমরাসহ বিভিন্ন জায়গায় ভেজাল দুধ ও ঘি তৈরির গোপন সংবাদ পেয়ে আমরা সেখানে অভিযান চালাই। ভেজাল প্রমাণ হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা এবং অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভেজাল দুধ ও ঘিতে সয়লাব হয়ে গেছে এ অঞ্চল, এবং ভেজাল রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, "এ অঞ্চলে নকল দুধ ও ঘি উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, সেখানেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এই অভিযানটি স্থানীয় বাজারে ভেজাল পণ্য নিয়ন্ত্রণে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আরও নিয়মিত তদারকি ও অভিযান চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে, যাতে করে ভোক্তারা নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পেতে পারেন।



