ইসরাইলি খেজুর চেনার উপায়: উৎস গোপন করে বিশ্ববাজারে বিক্রি হচ্ছে
ইসরাইলি খেজুর চেনার উপায়: উৎস গোপন করে বিক্রি

ইসরাইলি খেজুর চেনার উপায়: উৎস গোপন করে বিশ্ববাজারে বিক্রি হচ্ছে

সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জনপ্রিয় মেডজুল খেজুরের উৎস নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া মেডজুল খেজুরের একটি বড় অংশ ইসরাইলে উৎপাদিত, যার অনেকটাই চাষ করা হয় দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। এই খেজুরগুলোর প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে সেগুলো ফিলিস্তিনি পণ্য হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বয়কট আন্দোলন ও নতুন বাজারজাতকরণ কৌশল

ইউরোপ ও আরব বিশ্বে ইসরাইলি পণ্য বয়কট আন্দোলন জোরদার হওয়ার পর এ ধরনের অভিযোগ আরও বেড়েছে। খবরে বলা হয়, পশ্চিম তীরের বসতিতে উৎপাদিত খেজুর অনেক সময় এমনভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে, যাতে সেগুলো ফিলিস্তিনি পণ্য বলে মনে হয়। কখনো ‘মেড ইন ওয়েস্ট ব্যাংক’ লেখা মোড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মিশরভিত্তিক আল-গাদ টিভির এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, আগে যেসব খেজুর ‘মেড ইন ইসরাইল’ লেখা প্যাকেটে বিক্রি হতো, সেগুলো পরবর্তীতে নতুন মোড়কে স্থানীয় উৎপাদন হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

খেজুর রপ্তানি ও মুনাফার গতিপথ

দখলকৃত এলাকায় উৎপাদিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই এসব খেজুরের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও আরব দেশসহ বিশ্বের নানা দেশে রপ্তানি করা হয়। প্যাকেটে কখনো শুধু ‘ইসরাইলি পণ্য’ বা ‘জর্ডান ভ্যালির পণ্য’ লেখা থাকে। অভিযোগ রয়েছে, এসব খেজুরের মুনাফা শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের কাছেই যায়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নৈতিক প্রশ্ন তুলে ধরছে।

চেহারায় মিল ও পার্থক্য বোঝার চ্যালেঞ্জ

জর্ডান উপত্যকা ও মৃত সাগর এলাকার জলবায়ু প্রায় একই হওয়ায় খেজুরের রং, আকার ও গঠন কাছাকাছি হয়। ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীরা জানান, দেখতে অনেক সময় ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি খেজুরের মধ্যে পার্থক্য করা যায় না। তবে কিছু সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা সনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে।

বারকোড ও উৎপাদন পদ্ধতির পার্থক্য

ফিলিস্তিনি পাম অ্যান্ড ডেটস কাউন্সিলের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনি পণ্যের বারকোড সাধারণত ৬২৫ দিয়ে শুরু হয় এবং ‘প্রোডাক্ট অব প্যালেস্টাইন’ লেখা থাকে। অন্যদিকে ইসরাইলি পণ্যের বারকোড সচরাচর ৭২৯ দিয়ে শুরু হয়, কখনো ৮৭১-ও থাকতে পারে। তবে সতর্ক করা হয়েছে যে কিছু কোম্পানি নতুন প্যাকেট বা ভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরের নাম ব্যবহার করে প্রকৃত উৎস আড়াল করতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য নথি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করা হয়।

উৎপাদন পদ্ধতি ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য

উৎপাদন পদ্ধতিতেও পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনি খেজুর চাষে ঝরনা ও বিশুদ্ধ কূপের পানি ব্যবহারের দাবি করা হয়, যা স্বাদকে প্রাকৃতিক ও মিষ্টি রাখে। বিপরীতে ইসরাইলি বসতিতে অনেক সময় পরিশোধিত বা পুনর্ব্যবহৃত বর্জ্য পানি সেচে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্বাদ ও পুষ্টিগুণে প্রভাব ফেলতে পারে। বাহ্যিক দিক থেকেও কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়:

  • ফিলিস্তিনি খেজুর সাধারণত তুলনামূলক হালকা রঙের, মাঝারি আকারের এবং নরম ও রসালো হয়।
  • ইসরাইলি খেজুর অনেক সময় বেশি গাঢ় রঙের ও আকারে বড় দেখা যায়।
  • অপরিশোধিত পানি ব্যবহারের ফলে কিছু খেজুরের বিচিতে কালো দাগ থাকতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব পার্থক্য সবসময় স্পষ্ট নয় এবং ভোক্তাদের জন্য সঠিক সনাক্তকরণ একটি জটিল প্রক্রিয়া হতে পারে। বিশ্ববাজারে পণ্যের উৎস নিয়ে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উন্মোচন করছে।