রমজানে রাজধানীতে খেজুরের বাজার জমজমাট, ৪০ প্রকারের মধ্যে আজোয়া-সুক্কারির চাহিদা বেশি
রমজানে রাজধানীতে খেজুরের বাজার জমজমাট, আজোয়া-সুক্কারির চাহিদা

রমজানে রাজধানীতে খেজুরের বাজার জমজমাট, ৪০ প্রকারের মধ্যে আজোয়া-সুক্কারির চাহিদা বেশি

পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খেজুর কেনার হিড়িক পড়েছে। গতকাল বিকেলে কারওয়ান বাজার ও মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বরের পাশে ফলপট্টি মসজিদ গলিতে দেখা গেছে সারি সারি খেজুরের দোকান। অনেক বিক্রেতা ফুটপাতেও দোকান সাজিয়েছেন, যেখানে পাতলা পলিথিন দিয়ে ঢাকা রকমারি খেজুরের বাক্স সজ্জিত। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়, যা রমজান উপলক্ষে বাড়তি চাহিদার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

খেজুরের বৈচিত্র্য ও জনপ্রিয় প্রকারভেদ

বিক্রেতাদের মতে, বাজারে প্রায় ৪০ ধরনের খেজুর পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে দাবাস, মাবরুম, বরই, সুক্কারি, মরিয়ম ও আজোয়া খেজুর বেশি বিক্রি হচ্ছে। সুক্কারি খেজুর তুলনামূলক মিষ্টি স্বাদের জন্য অনেকের পছন্দ, এর দাম প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। অন্যদিকে, আজোয়া খেজুর ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়; কালচে রঙের এই খেজুরের দাম প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা। ইফতার মাহফিলের জন্য জাহিদি ও বরই খেজুরও ক্রেতাদের কাছে পছন্দের, মূলত দাম কম থাকায়। জাহিদি খেজুর প্রতি কেজি ২৫০ টাকা এবং বরই খেজুর ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বৃদ্ধি ও বিক্রেতাদের চ্যালেঞ্জ

খুচরা ব্যবসায়ীরা রাজধানীর বাদামতলী ফলের আড়ত থেকে খেজুর আনেন। বিক্রেতারা জানান, রোজা সামনে রেখে আড়তে দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা মিল্লাত হোসেন বলেন, ‘আড়তে ব্যাপক দাম বেড়ে গেছে। যেটা আমরা ১৮০ টাকায় কেনতে পারতাম, সেটা এখন ২৪০ টাকা। তাই আমরা কোন দামে বিক্রি করব! ক্রেতা চায় কম দামে ভালো জিনিস। অল্প লাভেই ছাড় দিচ্ছি।’ মিরপুরের বিক্রেতা নায়েল আফরিদি যোগ করেন, রমজানে নতুন মালের দাম বেশি, পুরানো মাল কম দামে বিক্রি হচ্ছে, এবং এই সময় বিক্রি বাড়ে।

ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া ও পুষ্টিগুণ

ফলপট্টি মসজিদ গলিতে খেজুর কিনছিলেন শিক্ষিকা রিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘খেজুর সব সময়ই নিই। আজোয়া নিলাম ১,০০০ টাকা কেজি আর সুক্কারি ৭০০ টাকা। আমরা সীমিত আয়ের মানুষ, সীমিত পরিমাণেই কিনি।’ অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে ফেরা সালেহ আহমেদ দাম কিছুটা বাড়তি মনে করলেও খেজুরের মান ভালো বলে উল্লেখ করেন।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ জানান, খেজুর কার্বোহাইড্রেট ও আয়রনসমৃদ্ধ হওয়ায় শক্তিদায়ক ফল, বিশেষত অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য উপকারী। তিনি বলেন, ‘সারা দিন রোজা রাখার পর দ্রুত শক্তি পেতে খেজুর সহায়ক। তবে ডায়াবেটিস বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে হিসাব করে খেতে হবে; ডায়াবেটিস রোগীদের একসঙ্গে দুটির বেশি খেজুর না খাওয়াই ভালো।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, খেজুর ইফতারের পাশাপাশি সাহরিতেও খাওয়া যেতে পারে।

বাজারের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মরিয়ম খেজুরের চাহিদা বাজারে বেশি, যার মধ্যে ইরানি মরিয়ম প্রতি কেজি ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য প্রকার যেমন সাফাভি (৮০০ টাকা), কামরাঙ্গা (৭০০ টাকা), গাছ পাকা মদিনা মরিয়ম (৫৫০ টাকা) সহ নানা ধরনের খেজুর পাওয়া যাচ্ছে। রমজান মাস জুড়ে এই চাহিদা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও দামের ওঠানামা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।