গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ ও খরমুজ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— এই ফল খাওয়ার পর কি পানি পান করা উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরমুজ বা খরমুজ খাওয়ার ঠিক পরেই পানি পান করা এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এতে হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা পেটে ব্যথার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কেন পানি পান করবেন না?
তরমুজে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে। ফলে খাওয়ার পরপরই আবার পানি খেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড পাতলা হয়ে যায়, যা হজমে বাধা সৃষ্টি করে। পাকস্থলী থেকে বিভিন্ন উৎসেচক ও অম্লরস বের হয়; তার মধ্যে পানি মিশে গেলে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, যা গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
হজমের অন্যান্য সমস্যা
হজম না হওয়া ফলের অংশ অনেক সময় খাদ্যনালিতেই থেকে যায়। তখন গ্যাস-অম্বল, ফুড পয়জনিংয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া শরীরের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা হজম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তরমুজ, খরমুজ, শসা, লেবুজাতীয় ফলের মধ্যে জলের পরিমাণ বেশি থাকে; তার সঙ্গে পানি খেলে পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং হজমে ব্যাঘাত ঘটে।
কখন পানি পান করবেন?
সাধারণত তরমুজ বা খরমুজ খাওয়ার অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট পর পানি পান করা উচিত। এ সময়ের পর পানি পান করলে সবচেয়ে নিরাপদ। স্বাভাবিক তৃষ্ণা অনুযায়ী পানি পান করা যেতে পারে। তবে যাদের পেটের সমস্যা বা আইবিএস আছে, তাদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।
ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা
যেসব ফলে জলের পরিমাণ বেশি, সেগুলো ডায়াবিটিসের রোগীরা খেতে পারেন। কিন্তু ফল খাওয়ার পরপরই পানি খেলে ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরণ বিঘ্নিত হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই ভুল এড়িয়ে চলা ভালো।
ফল খাওয়ার সঠিক সময় ও পদ্ধতি
গ্রীষ্মকালে সব সময় তাজা ও রসালো ফল খাওয়া উচিত। রাস্তার কাটা ফল এড়িয়ে চলুন। ডায়াবিটিস বা হজমের সমস্যা থাকলে সীমিত পরিমাণে ফল খান। ভারী খাবার, দুধ এবং ভাজাভুজির সঙ্গে ফল না খাওয়াই ভালো। সকালের খাবার ও মধ্যাহ্নভোজের মাঝে ফল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। রাতে ফল না খাওয়াই ভালো, কারণ তখন হজম প্রক্রিয়া ধীর হয় এবং শরীর বিশ্রামে যায়, যার ফলে বদহজম হতে পারে।



