আম খেলে কি সত্যিই শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়? জানুন সঠিক তথ্য
আম খেলে কি শরীর গরম হয়? জানুন সঠিক তথ্য

আম একটি জনপ্রিয় ফল যা বাংলাদেশে ফলের রাজা হিসেবে পরিচিত। গ্রীষ্মকাল এলেই বাজারে আমের সমাহার দেখা যায় এবং এটি সবার পছন্দের তালিকায় স্থান করে নেয়। তবে আমকে ঘিরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, বেশি আম খেলে শরীর গরম হয়ে যায়। এই ধারণার সত্যতা নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা রয়েছে।

আম কি সত্যিই শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়?

প্রচলিত ধারণায় আমকে উষ্ণ প্রকৃতির ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান অনুযায়ী, খাবারকে শুধু গরম বা ঠান্ডা হিসেবে ভাগ করার চেয়ে তার পুষ্টিগুণ ও উপাদানের ভিত্তিতে বিচার করাই বেশি যুক্তিযুক্ত। আমে প্রাকৃতিক চিনি ও ম্যাঙ্গিফেরিনের মতো উপাদান রয়েছে, যা হজমের সময় সামান্য তাপ উৎপন্ন করতে পারে। ফলে আম খাওয়ার পর কিছুটা উষ্ণ অনুভূতি হতে পারে, তবে এটি শরীরের মূল তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় না। এই অনুভূতি মূলত বিপাকক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

অতিরিক্ত আম খাওয়ার ঝুঁকি

পরিমাণের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একটি আম খাওয়া আর একসঙ্গে কয়েকটি আম খাওয়া এক নয়। অতিরিক্ত আম খেলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন—পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি, কারণ এতে ফাইবার ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি

অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা ছাড়াও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ত্বকের সমস্যা

কেউ কেউ ত্বকে ব্রণ বা ঠোঁটের চারপাশে জ্বালাপোড়া অনুভব করতে পারেন। আমের খোসার কাছাকাছি থাকা আঠালো রসে ইউরুশিওলজাতীয় উপাদান থাকে, যা কারও কারও ক্ষেত্রে ঠোঁটে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

ওজন বৃদ্ধি

বেশি পরিমাণে আম খেলে ক্যালোরি বেশি হওয়ায় ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গরমকালে আম খাওয়ার সময় সতর্কতা

গরমকালে আম খেলে শরীর গরম লাগার পেছনে শুধু আম দায়ী নয়। তীব্র গরমে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এর সাথে বেশি পরিমাণে মিষ্টি ফল খেলে শরীর ভারী বা অস্বস্তিকর লাগতে পারে।

পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়ার পরামর্শ

সব মিলিয়ে, আম খেলে শরীর গরম হয়ে যায়—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং অতিরিক্ত খাওয়া, হজমের সমস্যা এবং গরমের প্রভাব মিলিয়েই এই অনুভূতি তৈরি হয়। তাই পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। একজন সুস্থ ব্যক্তি দিনে ১-২টি আম খেতে পারেন। ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আম খাওয়া উচিত।