প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা দূর করতে সহজলভ্য একটি ঘরোয়া পানীয় হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে ভাতের মাড়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচণ্ড রোদে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়। এতে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে হালকা, ঠান্ডা ও সহজপাচ্য পানীয় হিসেবে ভাতের মাড় হতে পারে কার্যকর সমাধান।
ভাতের মাড় কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকেই চালের পানি বা ভাতের মাড়কে শুধুই রূপচর্চার উপাদান বলে মনে করেন। তবে বাস্তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশের খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ। কেউ ভাতের সঙ্গে মাড় খান, আবার কেউ ভাতের ফ্যান ফেলে না দিয়ে পানীয় হিসেবে গ্রহণ করেন। ভাত রান্নার সময় যে স্টার্চসমৃদ্ধ পানি তৈরি হয়, সেটিই ভাতের মাড়। সামান্য ঘোলাটে ও হালকা এই পানীয় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং দ্রুত হজম হয়। এর স্বাদ মৃদু হওয়ায় যারা কম ঝাঁঝালো পানীয় পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি উপযোগী।
পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
পুষ্টিবিদরা জানান, ভাতের মাড় শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা সহজ কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পেটের জন্য আরামদায়ক হওয়ায় হজম প্রক্রিয়ায়ও সহায়ক ভূমিকা রাখে। এতে কম ক্যালোরি থাকলেও ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি এটি ইলেকট্রোলাইটের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
প্রস্তুত প্রণালী
এই পানীয় তৈরি করাও বেশ সহজ। আধা কাপ চাল ভালোভাবে ধুয়ে ৩ কাপ পানিতে রান্না করতে হবে। ভাত সিদ্ধ হলে মাড় ছেঁকে আলাদা পাত্রে নিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। এরপর এতে সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া, বিট লবণ, সাধারণ লবণ ও এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিলেই প্রস্তুত হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর এই পানীয়। চাইলে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করা যায়।
পরামর্শ
গরমের দিনে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী এই পানীয় শরীরকে সতেজ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা দূর করতে ভাতের মাড় একটি চমৎকার ঘরোয়া সমাধান হতে পারে।



