বর্ষার দিনে আবহাওয়া হঠাৎ করেই চমক দেখাতে ভালোবাসে। সকালে ঝলমলে রোদ থাকলেও মুহূর্তেই নেমে আসতে পারে ঝুম বৃষ্টি, আর তাতেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ভিজে যেতে হয় অনেককেই। এভাবে ভিজে গেলে শরীর সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজলে সুস্থ থাকতে নিচের ছয়টি বিষয় মেনে চলা জরুরি—
১. দ্রুত চুল ও শরীর মুছে নিন
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব মাথা ও চুল মুছে ফেলুন। সঙ্গে সঙ্গে কাপড় বদলানোর সুযোগ না থাকলে অন্তত ভেজাভাব কমানোর চেষ্টা করুন, যাতে শরীরে ঠান্ডা না বসে। ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ রাখলে মাথাব্যথা ও সর্দি লাগার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
২. বাসায় ফিরে ভেজা কাপড় বদলান
বাড়িতে ফিরেই ভেজা কাপড়, মোজা ও জুতো খুলে ফেলুন। দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরে থাকলে সর্দি-কাশি এমনকি নিউমোনিয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি এতে জীবাণু সহজে বংশবিস্তার করে। তাই দ্রুত শুকনো ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করুন।
৩. কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন
বৃষ্টির পানিতে ধুলা ও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। তাই বাসায় ফিরে পরিষ্কার পানিতে গোসল করুন। কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পেশির ক্লান্তি দূর করে।
৪. পায়ের বাড়তি যত্ন নিন
বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে হাঁটলে পায়ে ফাঙ্গাল সংক্রমণ বা অ্যাথলেটস ফুট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সাবান দিয়ে পা ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজনে স্ক্রাব বা লবণ ব্যবহার করতে পারেন। পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলো ভালোভাবে শুকানো জরুরি।
৫. পা ভিজিয়ে শুকনো রাখুন
শরীরকে আরাম দিতে কিছুক্ষণ কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এরপর ভালোভাবে মুছে শুকনো করুন এবং প্রয়োজনে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করুন, যা আরামদায়ক অনুভূতি দেবে এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতা রোধ করবে।
৬. উষ্ণ পানীয় বা ভেষজ চা পান করুন
বৃষ্টিতে ভিজে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলে এক কাপ গরম চা বেশ উপকারী। আদা বা পুদিনা চা শরীর গরম রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়েও পান করতে পারেন।
সতর্কতা
বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা জরুরি। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা সঙ্গে রাখুন এবং ভারী বৃষ্টিতে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন, যাতে দুর্ঘটনা ও অসুস্থতা এড়ানো যায়। বাড়িতে ফিরে হাত ও পা ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
তথ্যসূত্র: এবিপি লাইভ ও রাচাসিমা হাসপাতাল



